চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হবে ৪-৬ লেন, লবণের ন্যায্যমূল্য পাবেন চাষিরা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪-৬ লেনে উন্নীত করা এবং লবণ চাষিদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় চকরিয়া শহীদ পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।”

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।

সফরের শুরুতে তিনি মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গিয়ে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তিনি নিজেই পাতলী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তারই পুত্র হিসেবে সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দুপুরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম-এর কবর জিয়ারত করেন। তিনি শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন।

পরে তিনি নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা, মাতামুহুরি উপজেলা এবং মাতামুহুরি থানা-র প্রশাসনিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে এবং এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত লবণ ও মৎস্য খাতনির্ভর। তাই আগামী দিনে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

একই সঙ্গে তিনি পেকুয়া-বাঁশখালী-আনোয়ারা সড়ক উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪-৬ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি জানান, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ, স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবারের বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে।”

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এনামুল হকের সভাপতিত্বে সা: সম্পাদক এম মোবারক আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন সরাষ্ট্রমনৃত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আবু সুফিয়ান। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়