জাহাঙ্গীর হোসেন, পটুয়াখালী

  ৪ ঘণ্টা আগে

হলুদিয়া পাখি বিলুপ্তির পথে

‘হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, পাখিটি ছাড়িল কে’ এমন কালজয়ী গান যে পাখিটিকে ঘিরে সেই হলুদিয়া পাখি প্রায় বিলুপ্ত। গ্রামবাংলর রূপ বর্ধনকারী পাখিটি এখন আর নেই বললেই চলে। শোনা যায় না শ্রুতিমধুর ডাক। বৈজ্ঞানিক নাম ড়ৎরড়ষঁং ীধহঃযড়ৎহঁং অর্থাৎ হলুদ সোনাবউ। ইংরেজি নাম- ইষধপশ-যড়ড়ফবফ ঙৎরড়ষব যার অর্থ বেনেবউ বা ইষ্টকুটুম পাখি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর বিচরণ রয়েছে।

শরীরের পুরো অংশজুড়ে সোনালী হলুদের উজ্জ্বল রং প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্যের শোভা বর্ধন করে পাখিটি। ঠোঁট গোলাপি লালচে। কালো চোখের মাঝখানে লাল বৃত্ত। গলা, লেজ ও পাখায় কালো রং বাড়িয়ে দিয়েছে পাখিটির রূপসৌন্দর্য। স্ত্রী পাখি পুরুষের তুলনায় সামান্য ফ্যাকাশে। শরীরের বেশিরভাগ হলুদ লোম থাকায় হলুদ বা হলদিয়া পাখি নামে পরিচিত এ অঞ্চলের মানুষের কাছে। স্থানীয়দের কাছে কুটুম পাখি নামেও পরিচিত। একসময় এ অঞ্চলের কোনো বাড়িতে খুব ভোরে কুটুম পাখির ডাক শুনলে স্থানীয়রা বুঝে নিত আজ বাড়িতে কোনো মেহমান আসবে। তাই এটাকে কুটুম পাখি হিসেবে সবাই চিহ্নিত করেছেন। দক্ষিণ বাংলার তেঁতুলিয়া বেষ্টিত বাউফলের মানুষ এ পাখির ডাক ‘ওভাই তোর কত ভোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। পাখির ডাক শুনতে এরকম মনে হলেও সেরকম শব্দ করে উচ্চারণ করতে পারে না। সাংকেতিক হিসেবে এভাবে ধরে নেয়। ইদানীং সহসা দেখা মেলে না জীববৈচিত্র্যের আলাদা রূপ বহন করা এই কুটুম পাখি।

একসময় দাদি-নানির গল্প ছিল পাখিটি ঘিরে। এক দিন দুই ভাই একটি জঙ্গলে যান বেড়াতে। সেখানে এক ভাই নির্মমভাবে বাঘের শিকারে পরিণত হয়। অপর ভাই হলুদিয়া পাখিতে রূপ নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। সে দিন থেকে বেঁচে যাওয়া পাখিটি বাঘের শিকারে পরিণত ভাইয়ের উদ্দেশে ডাক ধরেছে ‘ওভাই তোর কত ভোগ’। অসলে রূপকাথার গল্পে অনেক কিছুই থাকে যার বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এদের প্রজনন মৌসুম ধরা হয়। ২-৪টি ডিম দিয়ে থাকে। স্ত্রী-পুরুষ উভয় পাখি মিলে বাসা বাঁধে। গভীর বনে এরা বসবাস করতে পছন্দ করে। গভীর বনে ঝুলন্ত বাসা বাঁধে কুটুম এবং ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম দেয় পাখিটি। বিভিন্ন কিট-পতঙ্গ, ফল ও ফুলের নির্যাস এদের প্রধান খাদ্য।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের ডিন ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক পাখিই এখন বিলুপ্ত। এসব ছোট পাখির খাবার সাধারণত ফল-মূল ও কীট-পতঙ্গ। বর্তমানে সব ধরনের ফল-মূলে নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পাখি খেয়ে মারা যাচ্ছে। হলুদ পাখি গভীর বনে বসবাস করা প্রাণী। গভীর বন তো এখন একেবারে নেই বললেই চলে। এদের প্রজননের ক্ষেত্রে ঘন বন উজাড় প্রধান বাধা। তাই পাখিটি এখন নজরে আসেই না। সর্বশেষ হলুদ পাখি কবে দেখেছি তা মনে নেই।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়