reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

প্রতিশোধের মঞ্চে কানাডা, মরক্কোর সামনে ইতিহাসের হাতছানি

ফাইল ছবি

২০২২ বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতি এখনো ভুলে যায়নি কানাডা। কাতারে গ্রুপ পর্বে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল উত্তর আমেরিকার দেশটি। চার বছর পর সেই মরক্কোর বিপক্ষেই আবারও দেখা। এবার অবশ্য মঞ্চ আরো বড়—বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুদল। যেখানে একদিকে প্রতিশোধের মিশনে নামছে কানাডা, অন্যদিকে মরক্কোর লক্ষ্য ইতিহাসের আরো একটি অধ্যায় লেখা।

শেষ বত্রিশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ লড়াইয়ের পর স্টিফেন ইউস্তাকিওর ৯২ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় কানাডা। সেই জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেয়েছে জেসি মার্শের দল। পুরো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হলেও শেষ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয় তারা।

শুধু ফল নয়, পারফরম্যান্সেও নজর কেড়েছে কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে ১০০ বার প্রেসিং করেছে তারা, যা ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো দলের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার ধারাও বজায় রেখেছে উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধিরা। তবে এবার প্রতিপক্ষ আরো কঠিন। মরক্কোর বিপক্ষে অতীত রেকর্ডও কানাডার পক্ষে কথা বলছে না। চারবারের দেখায় তিনবারই হেরেছে তারা, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপেও মরক্কোর কাছে হারতে হয়েছিল কানাডাকে।

অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করছে, ২০২২ সালের সেমিফাইনাল কেবল একবারের বিস্ময় ছিল না। এবারও দারুণ ছন্দে রয়েছে আটলাস লায়ন্সরা। শেষ বত্রিশে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোয়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ৮০১টি সফল পাস দিয়েছে মরক্কো। বিশ্বকাপে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর স্পেন ছাড়া আর কোনো দল এক ম্যাচে এত সফল পাস দিতে পারেনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে আফ্রিকার দলটি। কানাডাকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ে। আর যদি ফ্রান্সও নিজেদের ম্যাচ জেতে, তাহলে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিদায় দেওয়ার প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও পাবে মরক্কো।

দুদলই প্রায় পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে। কানাডার হয়ে দীর্ঘ ইনজুরির পর আলফোনসো ডেভিস ফিরলেও তাকে শুরুর একাদশে রাখবেন কি না, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে রিচি লারিয়ার শুরু করার সম্ভাবনাই বেশি। মরক্কো শিবিরে কিছুটা শঙ্কা ছিল সেন্টার-ব্যাক শাদি রিয়াদকে নিয়ে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চোট পেলেও তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন এবং ম্যাচে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই নামতে পারবেন কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি।

প্রথম নকআউট জয় পাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে কানাডা। অন্যদিকে মরক্কো চাইবে নিজেদের স্বপ্নের যাত্রা আরো দীর্ঘ করতে। প্রতিশোধ আর ইতিহাস; দুই লক্ষ্য নিয়েই তাই হিউস্টনে অপেক্ষা করছে জমজমাট শেষ ষোলোর লড়াই।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়