সম্পাদকীয়

  ০৬ জানুয়ারি, ২০২০

জলাভূমি রক্ষা করতে হবে

গত কয়েক দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে জলাভূমি। শুধু ঢাকা শহরেই গত ২০ বছরে কমেছে ১৩ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার জলাভূমি। ১৯৯৯ সালে যা ছিল ১৯ দশমিক ০৯ বর্গকিলোমিটার, ২০০৯ সালে তা কমে হয়েছিল ৭ দশমিক ৬৮ বর্গকিলোমিটার। আর ২০১৯-এ এসে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটারে। তথ্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি)।

বিআইপি প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯৯ সালে ঢাকা শহরে খোলা জায়গার পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ বর্গকিলোমিটার, যা ২০০৯ সালে এসে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৪৫ বর্গকিলোমিটারে। পাশাপাশি ২০১৯ সালে তা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটারে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ বেড়েছে। ১৯৯৯ সালে যা ছিল ৬৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০০৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ১৮ শতাংশে। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনকহারে কমেছে খোলা জায়গাও।

কিন্তু কেন! কেন আশঙ্কজনকহারে জলাশয় ও খোলা জায়গা উধাও হয়ে যাচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলেছেন, শহরকে দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি দোকানের মতো দেখার চেষ্টা করছি। অনেকেই নিজের লাভের জন্য নিজের মতো করে অনেক কর্মকাণ্ড করে চলেছেন। যাদের ওপর দেখভালের দায়িত্ব থেকেছে, তারাও নিজ লাভকে ত্বরান্বিত করতে গিয়ে কাজে অবহেলা করেছেন। তাই কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে ইমারত। এ ছাড়া রয়েছে রাজনৈতিক ও ব্যক্তি প্রভাবের আগ্রাসী মনোভাব। জবরদখল গ্রাস করেছে বিশাল জলা ও সরকারি ভূমি। নদীর দুপাশ দখলের আওতায় পড়ে হয়েছে শীর্ণ, কোথাও কোথাও হারিয়েছে নিজের অস্তিত্ব। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেখভালের জন্য কোনো শক্ত প্রশাসন গড়ে উঠতে দেখা যায়নি। অনৈতিক কর্মকা- চলেছে তার নিজস্ব গতিতে। দীর্ঘদিনের এই অবহেলাজনিত কারণে একসময়ের প্রাচ্যের ভেনাস হিসেবে পরিচিত এই মহানগর আজ হারিয়েছে তার সব ঐতিহ্য। তবে এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো চেষ্টা করলে ঢাকা ফিরে পেতে পারে হৃতগৌরব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন শহর কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করে তার গণপরিসর, গণপরিবহন ও পরিষেবার ওপর। যে শহর কর্তৃপক্ষ এগুলোর ব্যবস্থাপনা সফলভাবে করতে পেরেছে, সে শহর তত বেশি নান্দনিক হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। আর ঢাকার ক্ষেত্রে এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন ওয়ার্ড পর্যায়ে পার্ক বা উদ্যান গড়ে তোলা।

নদীর দুপাশের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করে পরিকল্পিত বনায়ন গড়ে তোলা। শহরের চারপাশে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা। বিদ্যমান জলাশয় সংরক্ষণ ও দখল করা জলাশয় পুনরুদ্ধার করে চারপাশে সবুজায়নের মাধ্যমে গণপরিসর গড়ে তোলা। বর্ধিত নগর এলাকায় পরিকল্পনার মাধ্যমে সবুজ এলাকা ও জলাশয় নিশ্চিত করা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে নগরে সবুজ, নীল ও ধূসর অবকাঠামোর সুষম ভারসাম্য নিশ্চিত করা।

আমরা মনে করি, কোনোটাই অসম্ভব নয়। যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইতোমধ্যেই আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নদী দখলদারদের উচ্ছেদ কর্মযজ্ঞ অনেক এগিয়েছে। নগরকে নান্দনিক করার লক্ষ্যে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনাকে সফল করার জন্য প্রয়োজন দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে নগরবাসীকেও।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সম্পাদকীয়,নদী দখল,জলাভূমি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়