ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন
মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেন বার্নহ্যাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধ আরও তীব্র করে তুলেছেন, সেই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মাধ্যমে তিনি পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের নীতিই বহাল রাখলেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানান, চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে গত শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন স্টারমার।
ওই বৈঠকে মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ও ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি দুটো আগের মতোই ব্যবহারের অনুমতি পাবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা ও হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জায়গাগুলোতে হামলা চালাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো এসব ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বার্নহ্যামকে এই আলোচনার বিষয়ে জানানো হলে তিনি নীতিনির্ধারকদের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশের শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত প্রতিরক্ষামূলক বিমান হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের সরকারের নীতিই বহাল রাখবেন বার্নহ্যাম। অর্থাৎ চলমান মার্কিন হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা ও হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জায়গাগুলোতে হামলা চালাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো এসব ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার এই আগ্রাসী পদক্ষেপের ১০ দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, মঙ্গলবার রাতে তারা ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তবে স্টারমারের এই সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিকভাবে কঠিন ছিল। একদিকে ব্রিটিশ বামপন্থিদের চাপের মুখে তাকে ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার রুখতে হয়েছিল, অন্যদিকে ট্রাম্পের তরফ থেকে যুদ্ধকে আরও জোরালোভাবে সমর্থনের চাপ ছিল।
ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প যেসব মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ আছে। যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে বামঘেঁষা গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন বার্নহ্যাম। তারা বলছে, এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অর্থ হলো যুক্তরাজ্যকেও পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধের অংশীদার করে তোলা।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখার পর ট্রাম্পের মুখে বার্নহ্যামের প্রশংসার পেছনে নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তেরও ভূমিকা থাকতে পারে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বার্নহ্যাম।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, 'হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।'
এই ফোনালাপ নিয়ে ট্রাম্পও তার ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডলে বেশ ইতিবাচক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'আমরা উত্তর সাগরের তেল, বাণিজ্য, সামরিক জোটে পারস্পরিক সহযোগিতা, হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছি। ফোনালাপটি বেশ চমৎকার ছিল এবং খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।'









































