রাজ্জাক রুবেল
এটা কি বইয়ের আন্দোলন, নাকি একক প্রকাশনার প্রচার?

বইয়ের প্রসারের নামে যদি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান মানে ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’-এর বই-ই পাঠকের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এটা কি বইয়ের আন্দোলন, নাকি একক প্রকাশনার প্রচার?
বাংলাদেশে বইপড়া বাড়ুক, বইয়ের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ুক—এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে মহাসমারোহে সারা দেশে ঘুরে ঘুরে বইমেলার আয়োজন করছে, অথচ সেই মেলার শেলফে শুধু কেন্দ্র প্রকাশিত বই ছাড়া দেশের অন্যান্য প্রকাশনীর বইয়ের কোনো স্থান নেই। এতে কি সত্যিই দেশের প্রকাশনা শিল্পের উন্নয়ন হচ্ছে? কেনো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কি বাংলাদেশের সকল প্রকাশনী অল্প কিছু করে ভালো বইগুলো রাখতে পারতেন না? অবশ্যই পারতেন, জনগণের টাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কেনো শুধু তাদের নিজেদের আইডিওলজি প্রচার করবেন... সেটা করতে চাইলে নিজের টাকা খরচ করুক...
রাষ্ট্র যদি সত্যিই বইয়ের প্রসার চায়, তাহলে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়, পুরো প্রকাশনা খাতকে নিয়ে ভাবতে হবে
অন্যদিকে আমরা, যারা সারা বছর বই নিয়ে কাজ করি, পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দিতে চাই, তারা একটি সাধারণ বইমেলার অনুমতির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরি। গত এক বছরে গ্রন্থিক বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বর্ষাকালীন বইমেলার আয়োজনের চেষ্টা করেছে। কোথাও অনুমতি মেলেনি, কোথাও নানা অজুহাত। সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-এর বারান্দায় মাত্র দুই দিনের বইমেলা করার জন্যও ভাড়া চাওয়া হলো ৫৭ হাজার টাকা। আবার অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য—তাদের প্রাঙ্গণে বইমেলার অনুমতিই দেওয়া যায় না।
তাহলে প্রশ্ন হলো, বইমেলা কি সবার জন্য, নাকি শুধু বিশেষ কারও জন্য?
প্রকাশনা শিল্প একটি বৃহৎ ইকোসিস্টেম। এখানে লেখক আছেন, প্রকাশক আছেন, বই বিক্রেতা আছেন, পাঠক আছেন। রাষ্ট্র যদি সত্যিই বইয়ের প্রসার চায়, তাহলে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়, পুরো প্রকাশনা খাতকে নিয়ে ভাবতে হবে। দেশের শত শত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে হবে, পাঠকের সামনে বৈচিত্র্যময় বই পৌঁছে দিতে হবে।
গাছের মাথায় পানি ঢাললে গাছ বাঁচে না। পানি দিতে হয় শিকড়ে। বইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে পুরো প্রকাশনা শিল্পকেই শক্তিশালী করতে হবে, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে নয়।
লেখক : প্রকাশক, গ্রন্থিক









































