গাজী মো. শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১ ঘণ্টা আগে

যমুনায় পানি বৃদ্ধি: সিরাজগঞ্জে তীব্র ভাঙন, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বাড়ার ফলে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে নদী তীরবর্তী একাধিক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বাড়িঘর, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

নদীর পানি বৃদ্ধি ও ৩১টি ইউনিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ: পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই থেকে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি টানা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এলাকায় এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে নদীকূলের ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে প্লাবন ও ভাঙনপ্রবণ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে।

ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব নদীপাড়ের মানুষ: ভাঙনের মুখে পড়েছে জেলার শাহজাদপুর, চৌহালী এবং কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলগুলো। বিশেষ করে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাট সেন্টার এলাকায় নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিলীন হওয়ার মুখে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফ্লাট সেন্টারসহ বহু বসতবাড়ি।

শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াসিন মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, "নদী ভাঙনে আমি একবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। চরে আমার প্রায় ৬০ বিঘা জমি ছিল, যেখানে ফসল ফলিয়ে পরিবার নিয়ে সুখে দিন কাটাতাম। সর্বনাশা যমুনা আমার সব কেড়ে নিয়েছে। আমার মতো বহু মানুষ আজ পথের ভিখারি।"

অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভাঙনের তীব্রতা: কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আবু হানিফ জানান, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুম আসতেই নদী ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে। চলতি মাসেই এই এলাকার অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি: সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বাড়লেও দুটি পয়েন্টেই নদী এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হলেও জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রস্তুতি: বন্যা ও ভাঙন কবলিত মানুষের সহায়তায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ জানান, জেলার পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি উপজেলায় শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জরুরি সহায়তার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন মজুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিতরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়