বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জ

  ১ ঘণ্টা আগে

মানিকগঞ্জে কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন, পানির বদলে কচুরিপানার স্তূপ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গাজীখালী নদীতে নাব্য ফিরিয়ে আনতে শত কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও তার কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। এক সময়ের আশীর্বাদপুষ্ট এই নদী এখন স্থানীয় মানুষের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৬ কোটি টাকার খননে মিলছে না সুফল: সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালী নদীটি দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নদীটি আবারও আগের ভরাট ও মৃতপ্রায় অবস্থায় ফিরে গেছে।

থমকে গেছে জীবন-জীবিকা: বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও নদীর বড় অংশজুড়ে পানির প্রবাহ নেই। কোথাও কোথাও এত ঘন কচুরিপানা জন্মেছে যে পানির অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। ফলে নদীপথে নৌ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি সংকটে একদিকে যেমন সেচ ও কৃষি কাজে ভোগান্তি বেড়েছে, অন্যদিকে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

অদূরদর্শী পরিকল্পনা ও অযত্নের অভিযোগ: স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের পরও নদীর নাব্য টেকসই করা যায়নি। সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎসমুখ পুনঃখননের অভাবে পুরো প্রকল্পের সুফল ভেস্তে গেছে।

প্রকল্পের আর্থিক চিত্র: পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, সদর, সিংগাইর ও ঢাকার ধামরাই সীমান্তজুড়ে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজীখালী নদী পুনঃখনন করা হয়। তিনটি ভাগে বিভক্ত পুরো প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল সাটুরিয়া অংশেই দুই দফায় ব্যয় হয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

নদী রক্ষায় পরিবেশবাদীদের পরামর্শ: পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন 'বারসিক'-এর মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় জানান, কেবল পুনঃখনন করলেই হবে না; গাজীখালী নদীর উৎসমুখ পুনঃখনন, নিয়মিত কচুরিপানা পরিষ্কার, দখল-দূষণ রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। তা না হলে এই ঐতিহ্যবাহী নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।

পাউবোর ব্যাখ্যা: এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, "আমার যোগদানের আগেই গাজীখালী নদীর পুনঃখনন কাজ শেষ হয়েছে। তাই সে বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে নদীতে পানি না থাকার প্রধান কারণ গোপালপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর উৎসমুখ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া। ওই উৎসমুখ পুনঃখনন করা গেলে নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরতে পারে।"

এলাকাবাসীর দাবি ও তদন্তের আহ্বান: গাজীখালী নদীকে বাঁচাতে উৎসমুখ দ্রুত পুনঃখনন, নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ এবং অতীতের পুনঃখনন প্রকল্পের কাজের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাবে সাটুরিয়ার প্রাণের এই নদী।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়