বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
দিদারুলের স্ত্রীর আহাজারি
আমার মেয়ের বাবা ডাকার সুযোগটাও আর রইল না

মায়ের কোলে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে পাঁচ বছরের জান্নাতুল মাওয়া আফরা। কখনো মায়ের মুখের দিকে, কখনো ঘরে আসা মানুষের দিকে তাকাচ্ছে সে। প্লে শ্রেণিতে পড়া ছোট্ট মেয়েটি এখনো বুঝতে পারেনি, যার হাত ধরে স্কুলে যেত, যার জন্য সন্ধ্যায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত, সেই বাবা আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না। আফরার মা শারমিন আক্তারের চোখে তখন শুধু অশ্রু। কথা বলতে গেলেই কণ্ঠ আটকে আসে। বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই বৃহস্পতিবার সকালের স্মৃতিতে। আফসোস করে বলেন, ‘আমার মেয়ের বাবা ডাকার সুযোগটাও আর অবশেষ রইল না। কেমনে চলবে আমাদের সংসার।
সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। প্রতিদিনের মতো দিদারুল আলম খুব ভোরে কাজে যাননি। সেদিন একটু দেরি হয়েছিল। মেয়ে আফরার পরীক্ষা ছিল। সকাল সাড়ে আটটার দিকে নাস্তা শেষ করে শারমিন মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন দিদারুল বলেছিলেন, ‘তুমি যাও, মেয়ের পরীক্ষা শেষ করে আস। আমি বাসায় আছি।’
এটাই ছিল স্বামীর সঙ্গে তার শেষ স্বাভাবিক কথোপকথন। স্কুলে গিয়ে আধা ঘণ্টাও কাটেনি। হঠাৎ ফোন। ওপাশ থেকে কেউ জানতে চাইলেন, ‘কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছে, আপনার স্বামী কি সেখানে ছিলেন?’ শারমিন তখনো নিশ্চিন্ত ছিলেন। বলেছিলেন, ‘না, উনি তো বাসায় ছিলেন।’ কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেই বিশ্বাস ভেঙে যায়। খবর আসে, দিদারুল কারখানায় গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের সময় তিনি সামনেই ছিলেন। আগুনে তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
"






































