ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ : ফ্রান্স-ইংল্যান্ড
বিষণ্ণ বিদায় হাসিতে কাটবে কার?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি কোনো দলের জন্যই প্রথম পছন্দের মঞ্চ নয়। তবে ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙার বিষাদ ভুলে মাঠে নামা এ ম্যাচটি দলগত মর্যাদা ও ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজ শনিবার মায়ামিতে সেমিফাইনালে দুই পরাজিত দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এর মাধ্যমে বিশ্বকাপকে বিষণ্ণ বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে।
দুই দলই ফ্লোরিডায় পৌঁছেছে সেমিফাইনালের হতাশাজনক পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে। অনেকের মতে, দুটি ফুটবল পরাশক্তির এ ব্যর্থতার বড় অংশই ছিল নিজেদের ভুলের ফল। সেমিফাইনালে ওঠার পথে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্স গত মঙ্গলবার স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের সামনে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিল। যে কারণে ২-০ গোলে পরাজয়ন বরণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে বুধবার আটলান্টায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পরাজয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে আরো একটি অধ্যায় যোগ করে ইংল্যান্ড। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় থ্রি লায়ন্সদের। এখন দুই দলকেই এমন একটি ম্যাচের জন্য নিজেদের মানসিক ও শারীরিক শক্তির শেষটুকু জড়ো করতে হবে, যেটি ফুটবল বিশ্বে সাধারণভাবে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। এমন ম্যাচ সাধারণত কোনো দলই খেলতে চায় না।
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর বলেন, ‘আমাদের এবং ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ই এ ম্যাচ খেলতে চায় না। সবাই ফাইনাল খেলতে চায়। সেখানে ওঠার জন্য আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ জিততে চায়, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। ফ্রান্সের তুলনায় আমাদের বিশ্রামের জন্য একদিন কম সময় মিলেছে। তবু আমরা পেশাদারত্বের সঙ্গেই ম্যাচটি খেলব।’ এ ম্যাচটি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ের এক বিষণ্ণ পরিসমাপ্তি হয়ে থাকবে। টুখেলের মতোই সেমিফাইনালে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া দেশ্যম টুর্নামেন্ট শেষে ফ্রান্সের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। ৫৭ বছর বয়সি দেশ্যম ১৪ বছরের সফল কোচিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছেন। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল এবং এবারও শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
সেমিফাইনালে হারের পর দেশ্যম বলেন, ‘তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো আছে। তাই সেটি জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমরা যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম বা আশা করেছিলাম, সেখানে নেই। আমাদের হতাশার মাত্রা আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। কিন্তু এটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’ সান্ত্বনা হিসেবে খুব বেশি মূল্য না থাকলেও, এ ম্যাচটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি- দুজনই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ রক্ষণভাগের বিপক্ষে নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজবেন এমবাপ্পে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা ছয়টি করে। হার্ড রক স্টেডিয়ামে বড় কোনো পারফরম্যান্স করলে তারাও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শক্তভাবে ফিরতে পারেন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেনের জন্য এটি হয়তো বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচও হতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখের এ স্ট্রাইকার চলতি মাসেই ৩৩ বছরে পা রাখবেন। ফলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েচে। তবে বুধবারের পরাজয়ের পর নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কেন। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলার এখনো সময় আসেনি। আমি বছর ধরে এগোই। জাতীয় দল আমার গর্ব, আমার আনন্দ। এর চেয়ে বেশি ভালোবাসার কিছু নেই। এসব বিষয়ে আমি কখনোই নিজের জন্য কোনো সীমা নির্ধারণ করতে চাই না।’
এ ম্যাচে এমবাপ্পের সামনে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ওঠার সুযোগও রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের এ ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে মোট গোল ২০টি, যা মেসির সর্বোচ্চ ২১ গোলের থেকে একটি কম। দুই দলের শুরুর একাদশ কেমন হবে, তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। কঠিন ও ক্লান্তিকর টুর্নামেন্ট শেষে টাচেল তার দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় শেষ ষোলোর ম্যাচ, এরপর মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সব শেষে আর্জেন্টিনার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে অনেকটাই ক্লান্ত।
এ কারণে পুরো টুর্নামেন্টে কম খেলার সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের মাঠে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোবি মাইনুর বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে। পাশাপাশি কেনের বিকল্প স্ট্রাইকার অলি ওয়াটকিন্সও শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে দেশ্যম অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্তেকে খেলানোর কথা ভাবতে পারেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলের অন্যতম নায়ক কান্তে এবারের টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ১ মিনিটও মাঠে নামেননি।
"








































