ছামিউল চৌধুরী, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  ১৩ জুলাই, ২০২৬

মৌসুমি ফলের ঘ্রাণে মুখর পাবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের আয়োজন

বর্ষার আগমনী সুর আর গ্রীষ্মের শেষভাগ, এই সময়টায় বাংলার প্রকৃতি যেন রঙ ও স্বাদের এক অনন্য ভাণ্ডার খুলে দেয়। আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, পেয়ারা, আনারস, তরমুজসহ নানা মৌসুমি ফলে ভরে ওঠে চারপাশ। সেই আবহকে ঘিরে প্রাণবন্ত এক মিলনমেলায় পরিণত হয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রেসক্লাবের আয়োজিত ফল উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসব কেবল ফল খাওয়ার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও আনন্দ ভাগাভাগির এক সুন্দর উপলক্ষ। রঙিন ফলের সমাহারে সাজানো টেবিল ঘিরে সবার উচ্ছ্বাস যেন উৎসবকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।

এই ফল উৎসবে পরিবেশন করা হয় ১৬ প্রকার মৌসুমী ফল। এর মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আমলকি, আনারস, লটকন, আমড়া, কামরাঙা, কলা, লিচু, খেজুর, ড্রাগন ফল, জাম্বুরা, দেশি মাল্টা এবং তরমুজ। সবার জন্য খোলা ছিল ফলের টেবিল। অতিথিরা নিজ হাতে তুলে নেন বিভিন্ন পদের ফল, পাশাপাশি পরস্পরের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিখ্যাত সুস্বাদু ফলগুলোকে সংগ্রহ করে সাজিয়েছেন এ ফলের পশরা। শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকার ফল নিয়ে গল্প করেছেন, নিজেরদের পুরোনো স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করছেন, ভাগাভাগি করেছেন শৈশবের স্মৃতি। ফলে আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র। ফলের স্বাদের সঙ্গে মিশে ছিল গ্রামের বাড়ির ফল কুড়ানো স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন আর হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর নস্টালজিয়া।

প্র্রেসক্লাবের সদস্যরা জানান, ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মাঝে এমন আয়োজন সবার মধ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করে। প্রতিদিনের ক্লাস, পরীক্ষা, সংবাদ সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কাজের চাপের বাইরে কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফল উৎসবের আরেকটি দিক ছিল দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। বর্তমানে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি তরুণদের ঝোঁক বাড়লেও দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি, কাঁঠাল শক্তির ভালো উৎস, পেয়ারা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ, আর তরমুজ শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। তাই আনন্দের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তাও ছিল এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। আয়োজনজুড়ে ছিল প্রাণখোলা আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা ও স্মৃতিবন্দি করার ব্যস্ততা। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ আবার ফল কেটে পরিবেশনে সহযোগিতা করেছেন। ছোট ছোট এসব মুহূর্তই একটি সংগঠনের ভেতরে পারিবারিক আবহ তৈরি করে। উপস্থিত অনেকেই মনে করেন, এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত হওয়া উচিত, যাতে সবার মধ্যে বন্ধন আরো দৃঢ় হয়। এ প্রাণবন্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সব মিলিয়ে পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের ফল উৎসব ছিল প্রাণের এক আয়োজন। মৌসুমি ফলের রঙ, গন্ধ ও স্বাদ যেমন সবার মন ভরিয়ে দিয়েছে, তেমনি এই আয়োজন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে- একসঙ্গে বসে আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্কের প্রকৃত সৌন্দর্য। ক্যাম্পাসজীবনের অসংখ্য ব্যস্ততার মাঝেও এমন কিছু মুহূর্ত থেকে যায়, যা দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়