মো. মেহেরাব হোসেন রিফাত, ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশাল

  ১৩ জুলাই, ২০২৬

স্মরণীয় হলো শিক্ষাজীবনের শেষ দিন

কালো গাউন, মাথায় সমাবর্তনের টুপি, প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে স্মৃতিবন্দি শেষ কিছু মুহূর্ত। আনুষ্ঠানিক সমাবর্তন না হলেও পরিবেশ ছিল ঠিক যেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অপেক্ষায় থেকেও সে সুযোগ না পাওয়ায় বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের একদল শিক্ষার্থী নিজেদের উদ্যোগেই আয়োজন করেন সমাবর্তনের আদলে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় কলেজের পরীক্ষা ভবনের নিচতলায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কালো গাউন ও সমাবর্তনের টুপি পরে শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ছবি তোলেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি ভাগাভাগি করেন। চারপাশজুড়ে ছিল আনন্দ, আবেগ ও বিদায়ের মিশ্র অনুভূতি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত লাখো শিক্ষার্থীর মতো তারাও দীর্ঘদিন ধরে একটি আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনের প্রত্যাশা করে আসছেন। তবে ২০১৭ সালে একবার সমাবর্তন আয়োজনের পর আর কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নিজেদের শিক্ষাজীবনের শেষ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন তারা। ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী কে এম নিশাত আমীন বলেন, অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন থাকে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় আমরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই নিজেদের উদ্যোগে অন্তত সমাবর্তনের আবহ তৈরি করে বিদায়ের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করেছি। র‍্যাগ ডে আমাদের সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত সমাবর্তনের উদ্যোগ নেবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুননেসা। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি এই কলেজ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, অনেক কিছু পেয়েছি। তোমাদের কতটুকু দিতে পেরেছি, তার মূল্যায়ন হবে তোমাদের কর্ম, সততা ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে। তোমরা যেখানে থাকবে, সেখানেই এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম বয়ে নিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজনটি।

শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু একটি বিদায় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমাবর্তন-প্রত্যাশার প্রতীক হিসেবেও এটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে নিয়মিত সমাবর্তনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, এর আগে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগ ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের উদ্যোগে সমাবর্তনের আদলে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিভাগের এমন আয়োজন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকেই আরো জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়