কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

  ২১ ঘণ্টা আগে

শিশুর ওপর দোকানির ঘৃণ্য আচরণ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুর সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক শিশুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মুদি দোকানদারের বিরুদ্ধে। এ ঘৃণ্য ঘটনায় শিশুটির মা লাইলী বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে দেওতলা গ্রামের মৃত ফায়েজ উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলামকে (৫৫)। তিনি নিজবাড়ির পাশে একটি ভ্যারাইটিজ দোকান পরিচালনা করেন।

অভিযোগপত্রে লাইলী বেগম উল্লেখ করেন, গত ৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শফিকুল ইসলাম তাদের বাড়িতে পানি নেওয়ার জন্য আসেন। এ সময় বাড়ির আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে তার পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকাকে একা পেয়ে শারীরিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান বলে জানান শিশুটির মা। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করা হয়।

মায়ের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও তার সাত বছর বয়সি বড় মেয়ে এবং পাঁচ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন বলে পরিবারের দাবি। তারা জানান, দোকানে কোনো কিছু কিনতে গেলে শিশুদের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণ নিয়ে তাদের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।

অভিযোগে আরো বলা হয়, স্বামী কর্মস্থলে থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় তাকে অশোভন ইঙ্গিত দিতেন এবং রাতেরবেলায় বাড়ির আশপাশে এসে ডাকাডাকি করতেন। এই অভিযোগের সঙ্গে উঠে এসেছে পরিবারের একটি পুরোনো বেদনাদায়ক অধ্যায়। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার বড় মেয়ে বাড়ির সামনে একটি আমগাছে ফাঁস দিয়ে মারা যায়। সে সময় বিষয়টির প্রকৃত কারণ তারা বুঝতে পারেননি। তবে বর্তমান অভিযোগের পর ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিয়েও পরিবারের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ভয়, সামাজিক সংকোচ ও পরিস্থিতির কারণে তারা বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনতে পারেননি। অবশেষে তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দোকান পরিচালনা করে আসছেন। একটি শিশুর অভিযোগ থেকে সামনে এসেছে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও বেদনার কথা। এখন পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়