রুহুল আমিন রিপন, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ কার্যালয়
সকাল ১০টার পরও কর্মকর্তা কর্মচারীদের দেখা মেলে না

সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে আসা ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মে পরিণত হয়েছে। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার সরকারি আদেশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সকাল ১০টা পার হয়ে গেলেও দেখা মেলেনি বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। গতকাল রবিবার সকালে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে এই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে।
অফিসের মোট ১২ জন কর্মকর্তার মাঝে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম, নিম্নমান হিসাব সহকারী মুক্তারুজ্জামান ও লাইনম্যান-এ এবিএম কাইয়ুমকে ছাড়া আর কাউকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ৯টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী অফিসে না আসায় কর্মচারীদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের অফিসে থাকার কথা। মনে হয় তারা নিচতলার অফিস কক্ষে আছেন।
নিচতলায় কর্মচারীদের অফিস রুমে গিয়ে দেখা যায়, লাইনম্যান-এ এবিএম কাইয়ুম ছাড়া আর কেউ উপস্থিত নেই। তাদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার জন্য লাইনম্যান কাইয়ুমকে বলা হলে তিনি ওয়েল্ডার-এ হেদায়েত উল্লাহকে ৯টা ৩৬ মিনিটে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি সোহাগী বাজারে আছেন বলে জানান, সাহায্যকারী সাইফুল ইসলামকে ৯টা ৪৬ মিনিটে ফোন দিলে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ বাজার থেকে অফিসে রওনা করছেন বলে জানান। তারপর সাহায্যকারী ঝর্ণা আক্তারকে ৯টা ৫০ মিনিটে ফোন দিলে তিনি বাসায় আছেন বলে জানান। অফিসে না আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি মোক্তারুজ্জামানের কাছে বলে ছুটিতে আছেন বলে জানান। ঝর্ণা আক্তারের ছুটির ব্যাপারে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও নিম্নমান হিসাব সহকারী মুক্তারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তার ছুটির ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে তারা জানান। বাকি অপর সদস্যরা গতকাল সঠিক সময়ে কেন অফিসে উপস্থিত থাকেননি তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিদুৎ অফিসের কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমামকে সঠিক সময়ে অফিসে না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক্সচেঞ্জ অফিসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অফিসে আসতে ১১টা বেজে যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত অফিস সময়সূচি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা জরুরি পরিষেবা কাজে নিয়োজিত থাকি। তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের সময়সূচি মেনে চলা সম্ভব হয় না। আবাসিক প্রকৌশলী হিসেবে হামজা ইমামকে কর্মস্থলে থাকার কথা। কিন্তু তিনি কর্মস্থলে না থেকে ময়মনসিংহে অবস্থান করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার না থাকায় আমি ময়মনসিংহে থাকি।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ বিউবোর একচেঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে অফিসে থাকতে হবে এর কোনো বিকল্প নেই। যারা অনুপস্থিত রয়েছে তাদের বিষয়টি আমি দেখতেছি। তিনি বলেন, আবাসিক প্রকৌশলীকে আবশ্যিকভাবে কর্মস্থলে থাকতে হবে।
ময়মনসিংহ বিউবো প্রধান প্রকৌশলী গোলাম হায়দার তালুকদার জানান, বিদ্যুৎ অফিসের স্টাফরা অফিসে থাকবে না। ডিস্টিভিশনের ন্যাচার এমন না যে তাদেরকে অফিসে পাবেন। যদি আবাসিক প্রকৌশলী অফিসে না থাকে তাহলে সেটি আমি দেখব। আর.ই. সাহেবের বিষয়ে আমি এসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে খবর নিচ্ছি।
"






































