অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
মুনাফায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান ব্যাংকের

রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান ব্যাংক গত অর্থবছরে আর্থিক ও পরিচালনাগত বিভিন্ন প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক ও পরিচালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমানত, ঋণ বিতরণ, ঋণ আদায়, পরিচালন মুনাফা, গ্রাহকসেবা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে সংরক্ষিত তহবিলের (প্রভিশন) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০৯.৩৬ কোটি টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী বলেন, প্রভিশন ঘাটতি না থাকায় ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তির দৃঢ়তার প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক শুধুমাত্র ঋণগ্রহীতাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আমানত হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। সাধারণ জনগণের নিকট থেকে কোনোপ্রকার আমানত গ্রহণ না করেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকের মোট আমানত বেড়ে প্রায় ৫৬৫.৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই অর্থবছরে ব্যাংকের মোট ঋণ বিতরণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১৫৫.৮২ কোটি টাকা এবং পুঞ্জীভূত ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পেয়ে ২১ হাজার ৫৭২.৯০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮৩.৭০ কোটি টাকা। পুঞ্জীভূত আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ ২০ হাজার ৫২৭ কোটিরও বেশি, যার বিপরীতে পুঞ্জীভূত আদায়ের হার ৯৬ শতাংশ এবং আদায়যোগ্য ঋণের বিপরীতে আদায়ের হার ৭৯ শতাংশ।
এ ছাড়াও গত অর্থবছরের তুলনায় খেলাপি ঋণ হ্রাস পেয়েছে এবং শ্রেণিকৃত ঋণের হার মাত্র ৪.৮৬ শতাংশ, যা ব্যাংকের কার্যকর ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আদায় কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রতিফলন।
আর্থিক সূচকে আরো দেখা যায়, পরিচালন ও সংস্থাপন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা (সাময়িক) বৃদ্ধি পেয়ে ১৬১.০৭ কোটি টাকা হয়েছে।
ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫ হাজার ৫৩৫.৮৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণের লক্ষে ব্যাংক দেশব্যাপী কার্যক্রম বিস্তৃত করে চলেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ২৯০টি এবং আঞ্চলিক কার্যালয় ৩৩টি।
প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিতরণকৃত ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৪ জন, আর পুঞ্জীভূত ঋণগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৩ জনে। বিপরীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপকারভোগীর সংখ্যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩২১ জনের বেশি এবং পুঞ্জীভূত উপকারভোগীর সংখ্যা ৪৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬২ জনে উন্নীত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অরুন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘বেকার যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধিতে কর্মসংস্থান ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ঋণ সহায়তা, সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মসংস্থান ব্যাংক একটি কার্যকর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই ব্যাংক আজকের এ সাফল্য অর্জন করেছে।’
"







































