বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের শার্শায় বন বিভাগের গাছ কেনার অজুহাতে সওজের গাছ কর্তন

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের শার্শার বাগআঁচড়া পাঁচপুকুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জায়গা থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ৪০–৪৫ বছরের পুরোনো ৫টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘মেহরাব ট্রেডার্স’ নামক এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে গাছ কাটার চিত্র দেখা যায়। এর আগে ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা বাধা দেন। তবে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মূল সড়কের পাশে সওজের মালিকানাধীন জমিতে দীর্ঘ ৪০–৪৫ বছর ধরে দাঁড়িয়ে ছিল মেহগনি গাছগুলো। মঙ্গলবার দুপুরে মেহরাব ট্রেডার্সের কর্মীরা আকস্মিকভাবে গাছগুলো কাটতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন।
বাধার মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, তারা সরকারি অনুমতি নিয়েই গাছ কাটছেন এবং তাদের মোট ৪২টি গাছ কাটার অনুমোদন রয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত স্থানে মোট ৪২টি গাছের কোনো অস্তিত্বই নেই। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে সড়কের ধারের গাছ কেটে ফেললে ভবিষ্যতে সড়ক ভাঙনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হবে।
স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্য: স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ৪০–৪৫ বছর ধরে দেখে আসছি এই মেহগনি গাছগুলো জেলা পরিষদের লাগানো। কিন্তু আজ হঠাৎ করে এগুলো বন বিভাগের গাছ হয়ে গেল কীভাবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
আরেক বাসিন্দা সাইদুর জানান, বন বিভাগের অনুমোদনপত্র দেখিয়ে ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে সওজের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ সাবাড় করার চক্রান্ত চলছে।
ঠিকাদার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেহরাব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালে টেন্ডার হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে কাজ বন্ধ ছিল। নতুন করে আবার গাছ কাটা শুরু হয়েছে। তালিকার বাইরের কোনো গাছ কাটা হচ্ছে না।”
তবে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা সামাজিক বনায়ন কেন্দ্রের ইনচার্জ ইউনুচ আলী গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমরা ওই গাছ কর্তন করিনি। আপনাদের কাছে যে তথ্য গেছে তা সঠিক নয়।”
অন্যদিকে যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আশরাফুজ্জামান মঞ্জু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “২০২৪ সালে গাছ টেন্ডার হলে আমরা গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। নতুন করে গাছ কেটে নেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে সত্যতা পেয়েছি। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তবে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করায় আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি বাদ দিতে বলেছেন।”
এলাকাবাসীর দাবি: মহাসড়কের সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
পিডিএস/এমএইউ









































