রাঙামাটি প্রতিনিধি
টিসিবিতে চালের পরিবর্তে সাবান, অনিয়ম-দুর্নীতি

খোলা বাজারের চেয়ে কম দামে নিত্যপণ্য ভাজ্যতেল, ডাল, চিনি ইত্যাদি পেয়ে যেখানে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাওয়ার কথা সেখানে এসব পণ্য এখন যেন মানুষের কাছে গলায় কাঁটা। নিম্নমানের পণ্য হওয়াতে নিতেও পারছে না অন্যদিকে না নিলেও কার্ড বাতিলের ভয়। ন্যায্যমূল্য পণ্য বিক্রি নামে সাধারণ মানুষের সাথে করা হচ্ছে বড় প্রতারণা। টিসিবির চালের পরিবর্তে সাবান, সয়াবিনের পরিবর্তে ভোজ্য পাম তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের পণ্য হওয়াতে অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।
গত শনিবার সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মাঝে ন্যায্যমূল্যের টিসিবি পণ্য বিক্রির সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সুবিধাভোগীরা। সুবিধাভোগীরা অভিযোগ তোলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক নিয়োগ পাওয়া রাঙামাটির ডিলার মের্সাস মেহরাব স্টোরের মালিক রিদুয়ান বারীর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার সকালে রাঙামাটি পৌর এলাকার কাটা পাহাড় এলাকায় সুবিধাভোগীদের সাথে ডিলারের প্রতিনিধি বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে হযবরল হয়ে আছে টিসিবি পণ্য বিক্রির জায়গাটি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরিষদের প্রতিনিধি কাউকে দেখা যায়নি। টাঙ্গানো হয়নি টিসিবি পণ্য দামের নির্ধারিত তালিকা। সুবিধাভোগীদেরকে ৪৭০ টাকায় একটি টোকেন দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ফ্যামেলি নামে ভোজ্য পাম তেল, ডাল, চিনি,সাবান,থালা-বাসন মাজার সাবান ও কাপড় পরিষ্কার করার ডিটারজেন্ট পাউডার প্যাকেট। যেখানে ৫ কেজি চাউলের ন্যায্য দাম ৩০ টাকা করে মোট ১৫০ টাকা ধরা হয়েছে (তালিকানুযায়ী) সেখানে ৭০ টাকা দামের একটি মেরিল সাবান একটি কমদামি (আনুমানিক ২০টাকা) থালা-বাসন মাজার সাবান দেওয়া হয়। অনেকে আবার ডিটারজেন্ট পাউডার প্যাকেট পায়নি। এ বিষয়টি মানতে না পেরে সুবিধাভোগীরা প্রতিবাদ করলে ডিলারের মালিক রিদুয়ান বারীর ছেলে আলী হোসেন এ সময় ভোক্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। অনেক সুবিধাভোগী পাঁচ কেজি চাল না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন। সুবিধাভোগীরা রাগে ও ক্ষোভে নানা অভিযোগ তোলেন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক নিয়োগ পাওয়া ডিলার মের্সাস মেহরাব স্টোরের মালিক রিদুয়ান বারী ও বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সুবিধাভোগীরা যদি টিসিবি পণ্য না নেয় তাহলে পরবর্তীতে কার্ড বাতিলের সতর্কতা ডিলারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। এ মসয় ডিলার নিয়োগের বিষয়েও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায় সুবিধাভোগীরা।
সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিসিবি পণ্য বিক্রিতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বহু মাস ধরে। এ যেন অভিযোগ জমা হতে হতে পাহাড় সমান হয়ে গেছে। বার বার টিসিবির বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আপত্তি জানালেও কোনো লাভই হয় নি। ৪৭০ টাকার একটি টোকেনে ভোজ্য পাম তেল, ডাল, চিনি, সাবান, থালা-বাসন মাজার সাবান ও কাপড় পরিষ্কার করার ডিটারজেন্ট পাউডারের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। অনেকে কাপড় পরিষ্কার করার ডিটারজেন্ট ডিটারজেন্ট পাউডারের প্যাকেট পর্যন্ত পায়নি।
পূণ্যরাণী ত্রিপুরা বলেন, ডিলারের প্রতিনিধি থেকে বলা হয়েছে এবারে এসব পণ্য না নিলে কার্ড বাতিল হবে। তাই বাধ্য হয়ে পণ্যগুলো নিতে হচ্ছে।
১০০ টাকা বোট ভাড়া দিয়ে টিসিবি পণ্য নিতে এসেছেন বীরসেন চাকমা। কিন্তু টিসিবি পণ্য নিতে গিয়ে তার মুখে হতাশার ক্ষোভ দেখা যায়। টিসিবি পণ্য বিষয়ে নানা অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দূর থেকে কষ্ট করে ১০০ টাকা খরচ করে এসে নিম্নমানের পণ্য নিতে হচ্ছে। ৪৭০ টাকা দিয়ে এসব নিম্নমানের পণ্য নেওয়ার চাইতে না নেওয়ায় ভালো।
টিসিবি পণ্য বিক্রির দুপুরের সময়ে ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাধন কুমার চাকমা ও প্রদীপ কুমার চাকমা বলেন, সকালে চাউলের পরিবর্তে সাবান দেওয়ার বিষয়ে সুবিধাভোগী জানতে চাইলে পণ্য দামের তালিকা না দেওয়ায় তাদের কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি।
৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমর কুমার চাকমা বলেন, সরকার যা দিচ্ছে এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই।
এ প্রসঙ্গে রাঙামাটির সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌং বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষণা দিছে মানুষকে পণ্য কম দামে দেওয়ার জন্য। সরকার যা দিচ্ছে তার বাইরে তো কেউ কোনো কিছু করতে পারবে না। সরকারের পক্ষ থেকে যদি এসব পণ্য দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নেই। তারপরও এ বিষয়টি লিখে রাখছি। এ বিষয়টি আলোচনা করবো।
"





































