সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

  ৪ ঘণ্টা আগে

কক্সবাজারের ঈদগাঁও

৫ বছরেও হয়নি ভূমি অফিস সেবাবঞ্চিত এলাকাবাসী

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা একনেকে অনুমোদনের পাঁচ বছরেও স্থাপন করা হয়নি উপজেলা ভূমি অফিস। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থাকলেও গত দুই বছর যাবৎ অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না সহকারী কমিশনার। এতে করে প্রত্যন্ত এলাকার সর্বসাধারণ সব ধরনের তাৎক্ষণিক ভূমি সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। চরম ব্যাঘাত ঘটছে জনগণের ভূমিসেবা সহজীকরণ কার্যক্রমে।

জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে ‘জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি’ (একনেক) ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁওকে নতুন উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেয়। এটি জেলার নবম উপজেলা। বর্তমানে ভাড়া অফিসে বেশ কয়েকটি দপ্তরের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ অন্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ ও উপজেলা ভূমি অফিস স্থাপিত হয়নি।

যার কারণে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের জনগণকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী কক্সবাজার জেলা শহরে অবস্থিত ‘সদর উপজেলা ভূমি অফিসে’ গিয়ে ভূমি সেবা গ্রহণ করতে হয়। এতে প্রত্যন্ত এলাকার সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। ভিন্ন উপজেলায় গিয়ে ভূমি সেবা গ্রহণ করতে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। সময় এবং অর্থ নষ্ট করে সেখানে গেলেও অনেক সময় কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। সময়মতো ভূমিসেবা না পাওয়ায় নানান জটিলতার সন্মুখীন হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। যথাসময়ে সেবা না পাওয়ায় তাদের বারবার দূরবর্তী এ উপজেলা সদরে গিয়ে প্রচুর বিড়ম্বনার সন্মুখীন হতে হচ্ছে।

সদর উপজেলা ভূমি অফিস এবং সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) তৎসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রায় সময় সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকেন। যেমন- আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উচ্ছেদ কার্যক্রম, ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয় উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। তাছাড়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈদগাঁও উপজেলার চলতি দায়িত্বে থাকায় তার ওপর কাজের চাপও আরো বেড়ে গেছে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেন। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় সার্বিক কার্যক্রমে ধীর গতি বিরাজ করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এসিল্যান্ড পদায়নের ছাড়পত্র না দেওয়ায় ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসহায়, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিয়ত কষ্ট পেতে হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে তার স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠছে।

তবে ভুক্তভোগীরা জানান, নামজারি ও মিস মামলার অনুমোদন, আদালতের তদন্ত, প্রতিবেদনের অগ্রবর্তী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অনুমোদন-সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রম থেকে তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বাউন্ডারি ও খতিয়ানভুক্ত ৮৬ শতক জমি রয়েছে। যেখানে উপজেলা ভূমি অফিস করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।

ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ না হওয়ায় জনগণের ভূমিসেবা সহজীকরণের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করতে সমস্যা হচ্ছে। বালি উত্তোলন, পাহাড় কাটা, মাটিকাটা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানা অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এককথায় জনগণ প্রশাসনিক সেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়