reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

ভারতীয় ভিসা: আবেদন জমার প্রথমদিনেই উপচেপড়া ভিড়

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট (পর্যটন) ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে দেখা গেল ভিসাপ্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড়।

রোববার দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে। আর সোমবার (২৯ জুন) থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর কাঙ্ক্ষিত পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনি ছিল প্রথম দিনেই কাজ শেষ করার এক ধরনের তাড়াহুড়োও। সকাল থেকেই ভিসা আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইভ্যাকে সশরীরে কাগজপত্র জমা দেওয়ার অন্তত এক দিন আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করতে হচ্ছে। গত রোববার থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আজ থেকে সরাসরি আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়।

চুয়াডাঙ্গা থেকে রোববার রাত ১২টার ট্রেনে চড়ে ঢাকায় এসেছেন মারুফ শেখ। আইভ্যাক কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ‘আমরা ভ্রমণপিপাসু মানুষ। দেশের বহু জায়গায় ঘুরেছি, প্রতি বছর ভারতে ঘুরতে যাই। ২০২৫ সালে গোয়া যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর যেতে পারিনি।’

‘দুই দেশের মধ্যে হয়তো সাময়িক কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল’— এ ধারণা জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আশা করি এই সেবা আর বন্ধ হবে না। ভিসা চালু থাকলে আমাদের মতো পর্যটকরা যেমন ঘুরতে পারেন, সে দেশের সরকারও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।’

একই ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা গেল দোহার থেকে আসা ব্যবসায়ী রাজা আহমেদের মধ্যেও। দুপুর ১২টায় এসে প্রায় ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন পেয়েছেন তিনি। রাজা আহমেদ বলছিলেন, ‘আমাদের মতো স্বল্প আয়ের ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ভারতই একমাত্র সাশ্রয়ী অপশন। মাঝখানে একবার ভিসা চালুর নোটিস দেখেও কাজ হয়নি, তাই এবার খবর পেয়েই সকালে বাসা থেকে বের হয়ে গেছি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক এবং এই ভিসা যেন আর কখনো বন্ধ না হয়— এটাই প্রত্যাশা।’

বিকাল গড়াতে থাকলেও ভিসাপ্রত্যাশীদের ভিড় কমেনি। দুপুর ২টায় আসা মো. কাউসার জানালেন, তিনি দ্রুত টোকেন পেলেও তার সিরিয়াল নাম্বার পড়েছে ৯৩১। বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ যখন ৬০০ নাম্বার সিরিয়াল চলছিল, তখন তিনি ওয়েটিংরুমে অপেক্ষা করছিলেন। কাউসার জানালেন, ভেতরে প্রচুর মানুষের কারণে বেশ গরম লাগছে, তাই মাঝেমধ্যে হাঁটাহাঁটি করছেন। প্রথম দিনই ভিসার জন্য আসার কারণ হিসেবে বলছিলেন, ‘এত দিন পর চালু হলো, আবার যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়! তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে প্রথম দিনই চলে এলাম।’

ভিসাপ্রার্থী দীপ্তি রায়ের চোখে-মুখেও ছিল স্বস্তির আলো। ‘ভারতে আমার আত্মীয়রা আছেন। দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে দেখা হয় না। ভিসা চালুর খবর পেয়েই চলে এসেছি। এবার আত্মীয়দের সঙ্গে দেখাও হবে, ঘোরাঘুরিও হবে’— বলছিলেন তিনি।

আইভ্যাকের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানালেন, দীর্ঘদিন পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় সকাল থেকেই ভিসাপ্রত্যাশীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল, যা দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বিকাল নাগাদ তিনি জানালেন, ৪টা পর্যন্ত নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে ওই সময়েও ওয়েটিংরুমে প্রায় ৪০০ মানুষ অপেক্ষমাণ ছিলেন।

ওই কর্মকর্তা আশ্বস্ত করে বললেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা ভেতরে প্রবেশ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই আজ (সোমবার) কার্যক্রম শেষ করা হবে।’

বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার পাঁচটি আইভ্যাক কেন্দ্রে এই ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এই প্রধান শহরগুলোয় সেবা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য শহরের আইভ্যাক কেন্দ্রগুলোয়ও পর্যটন ভিসা সুবিধা চালু করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্কের আইভ্যাক কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশিদের জন্য ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিয়মিত ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। মাঝখানে জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হলেও পর্যটন ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়