গোলাম রসুল, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম
লক্ষ্যমাত্রার বেশি আখ চাষ বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এবার আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম ও বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এই উপজেলায় আখের আবাদ কিছুটা কম হলেও এবার এই অঞ্চলের কৃষকরা প্রায় ৪৩ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ করেছেন, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।
সিও ২০৮, বিএসএম আরআই ৪২, (রংবিলাস) ও ২০৮সহ পতিত জমিতে একাধিক জাতের আখ চাষ করে অধিক লাভের আশায় আছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা তাদের নিজস্ব বীজতলার জায়গায় বাড়তি মুনাফার আশায় এই আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন বেশি। কারণ বোরো আর আমন-ধান থেকে লাভ বেশি হওয়ায় আস্তে আস্তে জমির পরিধি বাড়াচ্ছেন তারা।
গত শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, শুভপুর, কাশিনগর, শ্রীপুর, উজিরপুর, কালিকাপুর, পৌরসভাসহ একাধিক স্থানে প্রচুর আখের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের পতিত জমিতে সারিবদ্ধভাবে লাগানো আখ গাছের কাটিং থেকে উৎপাদিত চারাগুলো বর্তমানে প্রায় পরিপক্ব হওয়ার পথে রয়েছে। অক্টোবর থেকে নভেম্বরে লাগানো এসব আখ বাজারজাত করতে হাতে আরো মাস দেড়েক সময় আছে বলে জানান কৃষকরা। তারা বলেন, অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য অমরা এবার আখের চাষ বাড়াচ্ছি।
কাশিনগর ইউনিয়নের বল্লবপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, এবার আমি প্রায় ১৮ শতক জমিতে আখ চাষ করেছি। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলে ২ থেকে ৩ মাস পর বাজারে বিক্রির জন্য আখ তোলা যাবে। এই আখে রস আসতে কমপক্ষে আরো এক মাস লাগবে। এই চাষে তেমন একটা খরচ পড়ে না। তবে খরচ যেমন হোক লাভ বেশি। আশা করি এবার অধিক মুনাফা অর্জন করব।
একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আরেক কৃষক আবুল কাশেম ও জাফর আহমেদ বলেন, ৩০ শতক জমিতে বিএসএম আরআই ৪২ (রংবিলাস) জাতের আখ চাষ করেছি। এবার ফলন অনেক ভালো হবে বলে আশা করছি। এখনো বাজারজাত করতে অনেক সময় আছে। অতিরিক্ত মুনাফা তুলতে পারব বলে আশা করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবার আমরা ৩০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছি। কাটিং লাগানো থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা যোবায়ের আহমেদ বলেন, এ বছর উপজেলায় ৪৩ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে ১০ জন কৃষককে আখের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় কৃষকেরা ভালো ফলন পাবে বলে আমি আশা করছি। এই অঞ্চলে প্রধান আবাদকৃত ফসল ধানের পাশাপাশি আখ চাষের প্রতি প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ লক্ষ করার মতো। কৃষি অফিসের সঠিক তদারকির কারণে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কুলকে আখ চাষে আরো উৎসাহী করার লক্ষ্যে সামনে প্রণোদনা বাড়ানো হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কৃষকদের আরো সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
"





































