রাজু আহম্মেদ, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম
দ্রুত ছড়াচ্ছে গবাদিপশুর খুরা রোগ, হাতুড়ে চিকিৎসায় ঠকছেন কৃষক

কুড়িগ্রাম জেলায় গবাদিপশুর সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় শত শত গবাদিপশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সবচেয়ে বেশি। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় প্রতিকার হচ্ছে না সহজে। সাধারণ খামারি এবং কৃষক পল্লী চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর দ্বারস্থ হচ্ছেন। তারা এই ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসা করছেন। গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের বোকা বানাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের চমকপ্রদ ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করছেন। তেমনি একজন পল্লী চিকিৎসক দীনেশ চন্দ্র বর্মণ। তিনি পরিচয় দেন ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন ও স্বাস্থ্যকর্মী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। মানুষকে বোকা বানিয়ে সাজছেন ডাক্তার।
কোম্পানির অফার এবং নিম্নমানের ওষুধ লিখে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। একটা ফোনকলে নিচ্ছেন ৫শ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ব্যাপারীপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের একটি গাভির পা ভেঙে যায়। কিছুদিন পর পল্লী চিকিৎসক দীনেশ চন্দ্র গরুটির পায়ে ফোঁড়া কেটে চিকিৎসা দেন। গরুটির পা না শুকিয়ে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়লে গরুটি বিক্রি করার পরামর্শ দেন তিনি। দেড় লাখ টাকার গরু কসাই ৩৩ হাজার টাকায় কিনে নেন। গরুটি রাতেই জবাই করা হয়। সবাই করা মাংস ভ্যানগাড়িতে নিয়ে এলে সেনেরখামার নামক এলাকায় কিছু ছেলে মাংসের ভ্যান আটক করেন। সেখানে টাকার বিনিময়ে রফা হলে সেই মাংস রাতেই বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে দেন কসাই আনিছুর রহমান।
গরুটির চিকিৎসার বিষয়ে লুৎফর রহমানের স্ত্রী বলেন, পল্লী চিকিৎসক দীনেশ জানান, পশু হাসপাতাল থেকে ডাক্তার নিয়ে এলে ৫ হাজার টাকা নিবে। এজন্য তার কাছে চিকিৎসা করাই ভালো।’
পল্লী চিকিৎসক দীনেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘গরুটির খুরা রোগ হয়েছিল, ফোঁড়া কেটে পরিষ্কার করে দিয়েছি। আমাকে চিকিৎসক বলা যাবে না। আমি একজন এআই টেকনিশিয়ান।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. হাবিবুর রহমান বলেন, পল্লী চিকিৎসকরা নিজেকে বড় ডাক্তার মনে করেন। এরা প্রান্তিক খামারিদের প্রলোভিত করেন। এ রকমের একজন পশু চিকিৎসক দীনেশ চন্দ্র বর্মণ। তিনি রেজিস্টার্ড কোনো চিকিৎসক নন। অপারেশন করতে পারেন না। তার উচিত ছিল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ দেওয়া।
"





































