জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

  ২৯ জুন, ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর

মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নেই, নামেই শিক্ষানগরী

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় দেশের অষ্টম বাণিজ্যিক শহর ও শিক্ষা নগরী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও তা ফিকে মনে করছেন স্থানীয়রা। শুধুমাত্র উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত বিমানবন্দর, দেশের বিশাল রেলওয়ে কারখানা ও ব্যবসায় প্রসার ঘটানোর কারণে সৈয়দপুর শহরের পরিচিত বেড়েছে। কিন্তু পুর্ণাঙ্গ শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত পেতে সৈয়দপুরে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত করার দাবি করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি দীর্ঘদিনেও।

সৈয়দপুরবাসী জানান, এই শহরে দেশের অন্যতম বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যান্টপাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আল ফারুক স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেরা। বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। ২০২৫ সালের দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় ৫৩ জন শিক্ষার্থী। এই কলেজটি প্রতি বছরই তার সাফল্য ধরে রেখেছে। বাকি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুনামও একই ধরনের। সৈয়দপুরের শিক্ষার্থীদের মেধার কারণে দেশের অনেকেই সৈয়দপুরকে শিক্ষা নগরী হিসেবে চিনে ও জানে।

সৈয়দপুরের বিজ্ঞ মহল জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজের ঘাটতি থাকায় শিক্ষা নগরীর খ্যাতিতে ফিকে পড়ে গেছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত শিক্ষার জন্য রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে, দিনাজপুর হার্ট ফাউন্ডেশন অথবা ঢাকার উন্নত হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। সৈয়দপুরেই যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হতো তাহলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা সৈয়দপুরেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতো, অন্য দিকে, সৈয়দপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তারাগঞ্জ, পার্বতীপুর, খানসামা ও পাকের হাটের রোগীরা কম খরচে চিকিৎসা সেবা পেতো।

বিজ্ঞ মহল আরো বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটিকে ২৫০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এজন্য জায়গা ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। সর্বস্তরের মানুষের জন্য এই হাসপাতাল নির্মিতি হলে সৈয়দপুরসহ আশপাশের জেলা উপজেলার লাখো মানুষ অল্প খরচে চিকিৎসা সেবা পেতো বলে ধারণা অনেকের।

এ বিষয়ে কথা হয় শিল্পপতি, সাবেক সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, তিনি এমপি থাকাকালীন সৈয়দপুর ডিগ্রি কলেজকে সরকারি করেছেন। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেছেন। তুলশিরাম বালিকা বিদ্যালয়কে সরকারি করেছেন। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ শহরসহ উপজেলার একাধিক মসজিদ মাদরাসা ও রাস্তা ঘাট নির্মাণ করেছেন। ইচ্ছে ছিল সরকারের বরাদ্দে সৈয়দপুরে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করবো কিন্তু সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে আগামীতে এমপি বা মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে আমার প্রথম কাজ হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। এগুলো হলেই সৈয়দপুর একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত পাবে দেশ জুড়ে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়