মনির হোসেন কাজী, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)

  ২০ ঘণ্টা আগে

ভাণ্ডারিয়ায় তদন্ত কমিটি

বিদ্যুৎ বিলের ৭০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা ব্যাংকের গার্ড

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ বিল আদায়ের প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী (গার্ড) উজ্জ্বল মিস্ত্রি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ গ্রাহকের জমা দেওয়া অর্থের হিসাব গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেএসএস সিকিউরিটি কোম্পানির মাধ্যমে ভাণ্ডারিয়া কৃষি ব্যাংকে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী উজ্জ্বল মিস্ত্রি দীর্ঘদিন ধরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তাকে নিয়মিতভাবে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে বসিয়ে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের টাকা গ্রহণ করানো হতো। আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়োজিত করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, উজ্জ্বল মিস্ত্রি ও ওজোপাডিকোর ভাণ্ডারিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ের আউটসোর্সিং কম্পিউটার অপারেটর সুশান্ত এবং নেয়ামত উল্লাহ রেজভীর যোগসাজশে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব গরমিলের ঘটনা সামনে আসে।

সূত্র জানায়, কম্পিউটার অপারেটর সুশান্ত ও নেয়ামত উল্লাহ রেজভীর দায়িত্ব ছিল নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের হিসাব যাচাই-বাছাই (অডিট) করে আবাসিক প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেনের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থের গরমিল থাকলেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তাদের দায়িত্ব পালন নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উজ্জ্বল মিস্ত্রি গত ১৮ জুন সর্বশেষ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ৪ হাজার ৪শ গ্রাহকের প্রায় ৭০ লাখ টাকার হিসাব গরমিল শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৫ জুন (শুক্রবার) ৬২২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫১ টাকা এবং ৬ জুন (শনিবার) ৫২৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৬ টাকা আদায় করা হয়। এসব অর্থের এন্ট্রি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনা প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাদের জমা দেওয়া অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত অর্থ উদ্ধার, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আবাসিক প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তে ব্যাংক ও বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তদন্তে কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তর, পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল, ওজোপাডিকো, বরিশালের প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার, গত ১৭ জুন ওজোপাডিকো বরিশাল আঞ্চলিক হিসাব শাখার ব্যাবস্থাপক রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেন। অন্য সদস্যরা হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মতিউর রহমান, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক মিস্ত্রি, সহকারী প্রকৌশলী ইমানুর রহমান। চারদিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ভান্ডারিয়া শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মিঠুন সাহকে ব্যাংকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে অফিসের মোবাইলে ফোন করা হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে একটি সূত্র জানায়, তিনি ব্যাংকের কাজে বাগেরহাটে আছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়