reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

ভারতের ব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধ, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও!

ভারতের আপত্তি ও দীর্ঘদিনের উদ্বেগ উপেক্ষা করে তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো (যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত) নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চীন।

ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক গতি পেয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে।

সীমান্তবর্তী এই মেগা প্রকল্পের কারণে ভাটির দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতি, পরিবেশ ও কৌশলগত নিরাপত্তায় কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিব্বতে উৎপত্তিলাভ করা ইয়ারলুং সাংপো নদীটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ হয়ে দেশে প্রবেশ করে ‘সিয়াং’ নাম ধারণ করেছে। এরপর এটি আসামের ওপর দিয়ে ‘ব্রহ্মপুত্র’ নদ হিসেবে প্রবাহিত হয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ফলে এই নদীর উজানে যেকোনো ধরনের বড় হস্তক্ষেপ ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

উজানে ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের এই মেগা বাঁধ নির্মাণের ফলে শুধু ভারত নয়, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপরও এর নেতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও মূল প্রতিবেদনে এনডিটিভির শুধু ভারতের উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সরাসরি বাংলাদেশের ওপরও বর্তাবে।

ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জলসংকট নিরসনকারী উৎস। চীন যদি এই মেগা বাঁধের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রাখে, তবে বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নদীর পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে। এর ফলে দেশের একটি বিশাল অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে, যা কৃষি সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত করবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নামিয়ে দিয়ে মরুকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

বাংলাদেশের যমুনা বা ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি ও ফসল উৎপাদন এই নদের পানির ওপর নির্ভরশীল। পানি প্রবাহ কমে গেলে সেচ সংকট তৈরি হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্য শস্য (বিশেষ করে বোরো ও আমন ধান) উৎপাদনের ওপর। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তাকে বড় ধরনের হুমকিতে ফেলবে।

নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হলে তা পরিবেশ ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে। নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে। এ ছাড়া নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে চারপাশের বনাঞ্চল এবং জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উজানে বাঁধ দেওয়ার বড় একটি অসুবিধা হলো পলি জমে যাওয়া। চীন যদি বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে না পেরে হঠাৎ বাঁধের গেট খুলে দেয়, তবে বাংলাদেশ অংশে আকস্মিক ও ভয়াবহ কৃত্রিম বন্যা দেখা দেবে। আবার স্বাভাবিক পলি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে বর্ষায় নদীর পাড় ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

উজানের দেশের হাতে নদীর চাবিকাঠি থাকা মানে ভাটির দেশের ওপর সব সময় একটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ থাকা। নদী নিয়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বিরোধ তৈরি হলে, চীন পানিকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ওয়াটার উইপন হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়