reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

সাফল্য

বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় গৌরবদীপ্ত নারীরা

৭১-এর রণাঙ্গনের নারীদের কথা জানলেও আমরা তেমন করে জানি না ভাষাসৈনিক নারীদের কথা। অথচ ভাষা প্রতিষ্ঠায় নারীরা যে ভূমিকা রেখেছেন তা অতুলনীয়। তাদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক যাদের নাম জানা গেছে তাদের অন্তত জানুক প্রজন্ম। যাদের অনেকে আর বেঁচে নেই। জেনে নিন তেমনি কয়েকজন নারীর বৃত্তান্ত

রওশন আরা বাচ্চু (১৭ ডিসেম্বর ১৯৩২-৩ ডিসেম্বর ২০১৯)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের শিক্ষার্থী ছিলেন রওশন আরা বাচ্চু। দেশব্যাপী তখন ছাত্র আন্দোলন ছিলে তুঙ্গে। মায়ের ভাষা রক্ষার আন্দোলনে তিনি জড়িয়ে পড়লেন। তারই অনুপ্রেরণায় ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠিত করে আমতলার সমাবেশ স্থলে নিয়ে আসা হয় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য। রওশন আরা বাচ্চু তার দলের সবাইকে নিয়ে পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন। এরপর পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে দেয়, যার ফলে অনেকে আহত ও নিহত হন। তিনি ছিলেন আহতদের একজন। রওশন আরা বাচ্চুর ২৫ আগস্ট ১৯৩৩ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৭ সালে পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে দর্শনে অনার্স করেন। এরপর ১৯৬৫ সালে বিএড এবং ১৯৭৪ সালে ইতিহাসে এমএ করেন। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি গণতান্ত্রিক প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্টের সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি করতেন। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে তার গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ায় সমাহিত করা হয়েছে।

লায়লা নূর (৫ অক্টোবর ১৯৩৪-৩১ মে ২০১৯)

ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, অনুবাদক ও ভাষাসৈনিক। ১৯৫৭ সালে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রথম মহিলা অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য লায়লা নূর ২১ দিন কারাভোগ করেন। ১৯৫৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি আরো প্রায় ২০ নারীসহ পাকিস্তান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। লায়লা নূর ১৯৩৪ সালের ৫ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার গাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবু নাসের মো. নূর উল্লাহ এবং মায়ের নাম শামসুন্নাহার মেহেদী। তিন বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। আবু নাসের ছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের জামশেদপুরে অবস্থিত টাটা স্টিল কোম্পানির প্রকৌশলী। সেখানেই লায়লা বেড়ে ওঠেন। কুমিল্লায় এসে তিনি ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক ও ১৯৫৪ সালে বিএ এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন

হালিমা খাতুন (২৫ আগস্ট ১৯৩৩-৩ জুলাই ২০১৮)

হালিমা খাতুন সরাসরি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন দেশের একজন শিশু সাহিত্যিক। পেয়েছেন একুশে পদকও। হালিমা খাতুন ব্রিটিশ ভারতে বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মাওলানা আবদুর রহমান ও মায়ের নাম দৌলতুননেসা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সাহিত্যে তার মাস্টার সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি নর্দার্ন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় পিএইচডি অর্জন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি শিক্ষকতা করেন। হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, রক্তদূষণের মতো নানা জটিলতা নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউতে ৩ জুলাই ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সুফিয়া কামাল (২০ জুন ১৯১১-২০ নভেম্বর ১৯৯৯)

প্রথিতযশা কবি ও সাহিত্যিক বেগম সুফিয়া কামাল ভাষা আন্দোলনেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী পূর্ববঙ্গে বাংলা ভাষার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক অনেকের সাহিত্য কর্ম ও সংগীত নিষিদ্ধ করেছিল। তখন সুফিয়া কামাল বাংলা ভাষার এহেন চেতনাবিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

শাফিয়া খাতুন (১৫ জানুয়ারি ১৯৩১-১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩)

শাফিয়া খাতুন উইমেন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভিপি হিসেবে এ সময় ভাষা আন্দোলনে ছাত্রীদের সংগঠিত করেন। শাফিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীনিবাস ‘চামেলি হাউসে’র ছাত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত ছাত্রজনতার সমাবেশকে সাফল্যম-িত করার জন্য ছাত্রীদের পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন শাফিয়া খাতুন।

আনোয়ারা খাতুন (১৯১৯-১৯৮৮)

একজন বাঙালি নারী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আনোয়ারা খাতুন ১৯৪৬ সালে তিনিই প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনেও জয় লাভ করেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় সদস্য। তার স্বামী আলী আমজাদ খান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন।

মমতাজ বেগম (২০ মে ১৯২৩-৩০ মার্চ ১৯৬৭)

ভাষা আন্দোলন চলাকালে মমতাজ বেগম নারায়ণগঞ্জের মর্গান হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে মর্গান হাইস্কুলের নিকটস্থ রহমতুল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট মাঠে একটি বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে মর্গান স্কুলের ছাত্রীসহ মহিলাদের প্রথম মিছিল নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন মমতাজ বেগম। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রীদের মধ্যে তিনি একজন। তিনিই প্রথম যিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সরকারি চাকরি হারান এবং গ্রেপ্তার হয়ে সবচেয়ে বেশি দিন কারাবরণ করেন।

জোবেদা খানম চৌধুরী (১৯০১-১৯৮৬)

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে ১৯৪৮ সালে সিলেটের মহিলাদের পক্ষ থেকে পূর্ববঙ্গের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এখানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জোবেদা খানম সিলেট আঞ্চলিক সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার ছেলে ভাষাসংগ্রামী আহমদ কবির চৌধুরী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।

নাদেরা বেগম (২ আগস্ট ১৯২৯-১২ এপ্রিল ২০১৩)

তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নের অন্যতম সংগঠক। ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি অংশ নেন। তিনি নেত্রী হিসেবে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে তার লেখা চিঠিই প্রেরণা হিসেবে কাজ করত বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও সংগঠনের আন্দোলনে অংশগ্রহণের পেছনে।

হামিদা রহমান (১৯২৭ সালের ২৯ জুলাই-১৪ আগস্ট ২০০৫)

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হামিদা রহমান যশোরের পুরোনো কসবায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যশোরের একমাত্র নারী ভাষা সৈনিক ও বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের একাধিক পত্রিকায় ভাষা আন্দোলন ও নারী অধিকা নিয়ে তার লেখা প্রকাশ হয়। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজের শিক্ষার্থীরাও গঠন করে ভাষা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদ। সেই পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন আলমগীর সিদ্দিকী। আর একমাত্র নারী যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন হামিদা রহমান।

সৈয়দা শাহার বানু (১৯১৪-১৯৮৩)

সৈয়দা শাহার বানু ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে ১৯৪৮ সালে সিলেটের মহিলাদের পক্ষ থেকে পূর্ববঙ্গের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। আর ঐতিহাসিক এই স্মারকলিপির অন্যতম উদ্যোক্তা ও স্বাক্ষর দাতা ছিলেন শাহার বানু চৌধুরী। তাকে সিলেটের নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হতো। তিনি সিলেটের ঐতিহাসিক গণভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তার সন্তান।

রিফা খাতুন (৬ ডিসেম্বর ১৯৩৬)

ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিলেন শরিফা খাতুন। ২১ ফেব্রুয়ারি যাতে ছাত্রীরা বের হতে না পারে সেজন্য গেট তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শরিফাসহ আরো কয়েক ছাত্রী গাছ ও ডাল বেয়ে দেয়াল টপকে কলেজ আঙিনা থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় চলে যান। ১৯৫৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটে। অনেক ছাত্রী গ্রেপ্তার হয়। অনেককেই সেদিন ১৪৪ ধারা ভাঙার দায়ে পুলিশ ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ২০-২১ জন। ২১-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করে তাতে যখন শ্রদ্ধা অর্পণ করা হয়, সেটিতেও অংশ নিয়েছিলেন শরিফা খাতুন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে ২০১৭ সালে একুশে প্রদান করা হয়। নারী ভাষাসৈনিক শরিফা খাতুন ফেনী মহকুমার শশ্মদি ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামে ৬ ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

রিজিয়া খাতুন

১৯৫২ সালে ঢাকায় মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আন্দোলন শুরু হলে এর ঢেউ লাগে জেলা শহরগুলোয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নড়াইলেও শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। সেদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই সেøাগানে মুখরিত করে তোলে। সেদিন ছাত্ররা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য ছাত্রীদের আহ্বান জানালে নড়াইলে মাত্র তিনজন নারী মিছিলে সরাসরি যোগ দেন, এদের একজন রিজিয়া খাতুন। ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে নড়াইলে শহরে প্রথম যে ১০-১৫ জন মিলে শহীদ মিনার স্থাপন করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন তিনি তাদের একজন।

চেমন আরা (১ জুলাই ১৯৩৫)

চেমন আরা ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ‘পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনিই শহীদ বরকতের রক্তাক্ত শার্ট নিয়ে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি নানা সামাজিক কর্মকা- ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৮ দৈনিক ভোরের কাগজের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা পান চেমন আরা।

প্রতিভা মুৎসুদ্দি

প্রতিভা মুৎসদ্দির জন্ম চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মহামুনী পাহাড়তলী গ্রামে। চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রী হিসেবে আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সেবা ও কল্যাণধর্মী কাজের সঙ্গে। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধিকার আন্দোলন তখন বেগবান। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকা অবস্থায় স্বাধিকার আন্দোলনের এক মিছিল থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। দুই সপ্তাহের কারাবাসের পর মুক্ত হন। বর্তমানে রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বাংলাদেশ) লিমিটেডের একজন পরিচালক তিনি।

কাজী খালেদা খাতুন

ভাষা আন্দোলনের উত্তপ্ত সময়ে খালেদা খাতুন কামরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। একুশে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারার মধ্যেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলার সভায় অংশ নেন। এরপর ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন খালেদা খাতুন। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রওশন আরা বাচ্চুরা তখন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ সবস্তরের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাদের অনুপ্রেরণায় স্কুলছাত্রী খালেদা খাতুন তার সহপাঠীদের নিয়ে যুক্ত হয় ভাষা আন্দোলনে এবং মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। কাজী খালেদা খাতুন আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরি করেন, যা ছিল কোনো স্কুলে তৈরি প্রথম শহীদ মিনার। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন চিকিৎসকে হিসেবে কাজ করে অবসরে যান।

সংগৃহীত

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়