রংপুর ব্যুরো
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান বিভাগীয় কমিশনারের

রংপুরে উদযাপিত হয়েছে বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ। শনিবার সকালে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় 'দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প' এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “একটি জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো বই। তাই নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।” অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোমলমতি শিশুদের মেধা ও ভবিষ্যতের সুরক্ষায় তাদের বই পড়ায় উৎসাহিত করতে হবে এবং স্ক্রিন বা মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক সমাজকে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেকে তথ্যসমৃদ্ধ, দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। জ্ঞান, সংস্কৃতি ও পাঠচর্চানির্ভর সমাজ গঠনে গণগ্রন্থাগারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের কারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানুষের আসক্তি বাড়ছে, যার ফলে বই পড়ার অভ্যাস আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। বই মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং একাকীত্ব দূর করে। একটি ইতিবাচক জীবন গঠনে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও প্রকল্প পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (উন্নয়ন ও আইসিটি) ডা. সঞ্জীব সূত্রধর।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এরপর অতিথিবৃন্দ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা পরিদর্শন করেন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটির সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে সকালে রংপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে বের হওয়া একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে এসে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, পাঠক সমাবেশ উপলক্ষে গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত দিনব্যাপী বইমেলায় ৪টি স্টল স্থান পায়।
পিডিএস/এমএইউ









































