ফাহিম হুসাইন
আনোয়ার শাহ কাশ্মিরীর স্মরণশক্তি

আগের বুজুর্গ ও গুণীদের কাহিনি অনেক উঁচু স্তরের কিতাবে পড়েছি। কিন্তু বর্তমান জামানার বুজুর্গ-গুণীজনদের কাহিনিও আমার শ্রদ্ধেয় মরহুম আব্বার কাছে প্রায়ই শুনতাম। আব্বার খাস উস্তাদ হজরত মাওলানা আল্লামা সাইয়িদ আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহ.)-এর ঘটনা তিনি কয়েকবার শুনিয়েছেন। তিনি বলতেন, হজরত শাহ সাহেব একবার খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার এ অসুস্থতাই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল। কঠিন অসুস্থতা, সার্বক্ষণিকের আশঙ্কা ছিল, কখন যেন তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যান। শায়খুল ইসলাম হজরত মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী (রহ.) বলতেন, ওই সময়ে একদিন রাতের বেলা রটে গেল যে, হজরত শাহ সাহেবের ইন্তিকাল হয়েছে। আল্লামা উসমানী বলেন, শেষ রাতে আমি ঘর থেকে বের হয়ে হজরতের ঘরের দিকে চললাম। হজরতের ঘর ছিল দেওবন্দের খনকাহ মহল্লায়- যা শহরের আবাসিক এলাকা থেকে বেশ কিছুটা দূরে। তিনি বলেন, যখন তার ঘরের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, তখন তার কক্ষে একটি লণ্ঠন-বাতি নজরে পড়ল। এতে আমার মনে এক ধরনের আশঙ্কাবোধ হতে লাগল, কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকবে। আমি সেখানে পৌঁছেই অনুমতি নেওয়ার জন্যে আসসালামু আলাইকুম বললাম। তিনি আমাকে ভেতরে ডেকে নিলেন। দেখলাম, তার হাতে ফতোয়ায়ে শামি কিতাব। লণ্ঠন-বাতি সামনে রাখা আছে। তিনি দুজানু পেতে বসে কিছুটা ঝুঁকে পড়ে ওই কিতাব অধ্যয়ন করছেন।
আল্লামা শাব্বীর আহমদ উসমানী (রহ.) বলেন, আমি তার স্বাস্থ্যের ভালোমন্দ অবস্থা জিজ্ঞেস করলাম। বিনয়ের সঙ্গে তাকে বললাম, হজরত! একটি বিষয় আমার বুঝে আসে না, এমন সংকটকালে কী এমন মাসআলা জানা জরুরি হয়েছে, এত কষ্ট করে কিতাব দেখছেন? আর যদি প্রয়োজনীয় কিছু হয়েই থাকে, তাহলে হজরতের সে বিষয়টি জানা নেই- এমনটি এ অধম বিশ্বাস করে না। হজরত উসমানীর এ কথা বলার উদ্দেশ্য হলো, হজরত শাহ সাহেবের স্মরণ শক্তি ছিল খুব উঁচু স্তরের যা প্রবাদতুল্য।
"








































