নওগাঁ ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
গোমস্তাপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা
ঝিনাইদহে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর টহল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে নদীপথে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এদিকে ‘হাতে মাইক, মুখে বাঁশি সীমান্তে চলছে বিজিবির কড়া নজরদারি’। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে কয়েক দফা পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। পুশইন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকাজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় এলাকাবাসী কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার গভীর রাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীন রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নৌকাযোগে ১৫ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তারা সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন এবং কঠোর নজরদারি শুরু করেন।
বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও তৎপরতার মুখে কয়েক ঘণ্টা পর বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ওই ১৫ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি আরো জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও বাসিন্দাদের সমন্বয়ে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রাতভোর মহেশপুর সীমান্তে চলছে বিজিবির কঠোর নজরদারি। বিজিবির টহলে যোগ দিয়েছেন গ্রাম পুলিশ, আনসার ও এলাকাবাসী। তবে এ সীমান্ত দিয়ে এখনো কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। ঝিনাইদহের মহেশপুরের সঙ্গে ভারতের ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া। মাঠিলা ও যাদবপুর বিওপির এলাকায় ১০ কিলোমিটার সীমান্তে নেই কাঁটাতারের কোনো বেড়া। ফলে এ ১০ কিলোমিটার সীমান্তে পুশইন ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলায় ৫৮ বিজিবির অধীন ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। এর মধ্যে পুশইন ঝুঁকিতে রয়েছে মাঠিলা, সামন্তা, যাদবপুর, বাঘাডাঙ্গা বিওপিসহ অন্তত ৫টি বিওপি। এসব বিওপি এলাকায় কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। সরেজমিন দেখা যায়, মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর মাঠিলা সামন্তা বাঘাডাঙ্গা শ্রীনাথপুর কুসুমপুর বিওপি এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত টহল দিচ্ছেন। হাতে মাইক, মুখে বাঁশি নিয়ে সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি চোখে পড়ছে সবসময়।
বিশেষ করে কাজিরবেড় ইউনিয়নের সামন্তা ও মাটিলা বিওপি এলাকার সীমান্তে বিজিবির টহল ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব এলাকায় সীমান্তের শূন্যলাইন ঘেঁষে বিজিবি আনসার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিজিবির একাধিক সদস্য সূত্রে জানা গেছে, সামন্তা বিওপির অধীন, কচুরপোতা, পাখরাইল, এলাকায় রাতের আঁধারে অন্ধকারে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন লাইট বন্ধ করে কয়েকবার পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কাঁটাতার সংলগ্ন লাইট বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের প্রান্ত থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর চিৎকার, মাইকিং ও টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে।
সীমান্তবর্তী কাজিরবেড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখছি বিএসএফ তাদের কাঁটাতার ঘেঁষা সড়কে বড় গাড়িতে করে লোকজন ধরে এনে জমা করছিল। পরে রাতে কাঁটাতারের আলো বন্ধ করে গেট খুলে দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে। তবে এলাকাবাসী ও বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে অন্তত ৫/৬টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। সামন্তা গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টার আলামত দেখলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে জানাই। বিজিবির সংঘের রাত জেগে গ্রামের মানুষ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। কোনো পুশইন মেনে নেওয়া হবে না।
মহেশপুর (৫৮) বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম বলেন, মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকবার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের সৈনিকরা সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থানে রয়েছেন তিনি আরো বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও আমাদের সৈনিকদের সঙ্গে টহলে সহায়তা করছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে আমরা এক ইঞ্চিও ছাড় দেব না বলে জানান বিজিবির এ দায়িত্বশীল অফিসার ও এলাকাবাসী।
"









































