ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ৩ ঘণ্টা আগে

‘তুই আসামি গাড়িতে ওঠ’

মারধরের শিকার নাঈমের পাশে বিসিবি

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রাম ফেরার পর মাঝরাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়েছেন নাঈম হাসান। ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া ও পুলিশ হেফাজতে মারধরের অভিযোগ করেছেন জাতীয় দলের এ অফ-স্পিনার। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিকেএসপিতে গত শুক্রবার ছিল প্রিমিয়ার লিগে নাঈমের দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের শেষ রাউন্ডের ম্যাচ। ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে প্রাইম ব্যাংকের একাদশে ছিলেন না নাঈম। তবে দলের সঙ্গেই ছিলেন এ অফ-স্পিনার।

পরে ম্যাচ শেষ হলে রাতের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার ওপর চড়াও হন কতিপয় ব্যক্তি। পরে তাকে থানায় নিয়েও হেনস্তার অভিযোগ করেন নাঈম। মাঝরাতেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন ২৬ বছর বয়সি স্পিনার। ‘এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজিতে করে আসছিলাম। ১১টা ২৫-এর দিকে লালখান বাজারের দিকে সিএনজি দাঁড় করায় পুলিশ। আমি বের হয়ে দাঁড়াই। বললাম ব্যাগ চেক করেন। তবে ওই পুলিশ সদস্য আমাকে বলে, তুই গাড়িতে ওঠ, তুই আসামি।’

‘এরপর গলা চিপে ধরে আমাকে সিএনজিতে উঠাইছে। আমি বের হওয়ার চেষ্টা করলে দুজন আমাকে চেপে ধরে আরেকজন মারধর করতে থাকে পাইপ দিয়ে। দুজন পুলিশ ও একজন পাঞ্জাবি পরা কেউ ছিল। ওখানে একপর্যায়ে প্রায় ১০০ লোক জড়ো হয়েছিল, তারা আমার পরিচয় দিলেও ওরা (পুলিশ) মারতেই থাকে। আমি পরিচয় দিয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।’ পরে থানায় নেওয়া হলেও একইভাবে হেনস্তা করা হয় বলেন নাঈম। ‘আমাকে থানায় আনার পর ওসি বললেন, ‘চোখ নামায় রাখ। চোখ নামায় কথা বল।’ এরপর ওনার ফোনে একটা কল আসে, তারপর বলে তুমি বস। ওসি এসআই শফিকসহ বাকি দুজনকে সরিয়ে দিয়েছে।’

এ ঘটনায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামের এ অফ-স্পিনার। ‘ওরা তো আমার মোবাইল রেখে দিছিল। থানায় আসার পর মোবাইল পেয়ে তামিম ভাইকে কল দিছি। এরপর খসরু (ঈসরাফিল খসরু) ভাই কল দিছিলেন আমাকে। ওসির সঙ্গে কথা বলছে। এরপর হাসপাতালে গিয়ে রিপোর্ট আনছি। এটা বিচার হবে তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে।’ পরে সকালে বিসিবির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি নাঈমের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়।

‘শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের দ্বারা বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান নিগৃহীত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে যে খবর পাওয়া গেছে, তাতে বিসিবি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।’ ‘খেলোয়াড়ের প্রতি প্রদর্শিত এমন অগ্রহণযোগ্য ও অশোভন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে বোর্ড এবং এ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একজন জাতীয় ক্রীড়াবিদের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবিলম্বে এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।’ ‘বিসিবি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে যেন দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

‘ঘটনাটি জানার পর থেকেই বিসিবি নাঈম হাসান এবং তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়। এছাড়া এ গুরুতর বিষয়টি সমাধানের জন্য বোর্ড চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার সব খেলোয়াড়ের কল্যাণ, মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়