নিজস্ব প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধ ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গতকাল শনিবার গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে মোট ৩ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০টি এলাকায় ৫০০ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে অস্ত্র হাতে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, দেশ গড়ার এ দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবং ঢাকাকে বাঁচানোর লড়াই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।’
৫ বছরে ২৫ কোটি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এর বিকল্প কিছুই নেই। ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, কংক্রিটের আধিক্যের কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে যেতে পারছে না। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে ঘাস বা দূর্বা রাখার জন্য আমি নগরবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।
শহরের সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ছাদ কৃষকের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে প্রশাসক জানান, ঢাকায় যারা ছাদ কৃষি করছেন, তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথম ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পরবর্তীতে ছাদ কৃষকের হোল্ডিং ট্যাক্স রিবেট (ট্যাক্স ছাড়) দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির জিরো ওয়েস্ট কার্যক্রমের আওতায় এরই মধ্যে রোড মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদযানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের গাছ উপহার দেওয়া হবে।
প্রশাসক নগরীর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাদের পার্ক বা উন্মুক্ত স্থান ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০টি অঞ্চলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সব শেষে তিনি ঢাকাকে একটি সুন্দর, ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
"









































