নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৩০ মে, ২০২৪

মেয়রস নলেজ এক্সচেঞ্জ শীর্ষক কর্মশালায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

গ্রামাঞ্চলে সুষম উন্নয়ন হলে অভ্যন্তরীণ মাইগ্রেশন কমবে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, অভ্যন্তরীণ মাইগ্রেশন একটি চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক উন্নতি ও সুযোগ-সুবিধার জন্য মানুষের গ্রাম থেকে শহরে যাওয়ার একটা সহজাত প্রবণতা থাকে। বিশ্বে এটা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ আয়তনে ছোট ফলে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এত মানুষের শহরে ঠিকমতো নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং কাজ। এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, কাজের সুযোগ, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হলে অভ্যন্তরীণ মাইগ্রেশন প্রবণতা হ্রাস পাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগ এবং ইউএনডিপি ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহোযোগিতায় গতকাল বুধবার আয়োজিত মেয়রস নলেজ এক্সচেঞ্জ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এলআইইউপিসিপির উন্নত চর্চা নিরূপণে আয়োজিত কর্মশালাটি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনামলের শোষণ বঞ্চনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিক্ষাসহ সবক্ষেত্রেই ছিল শোচনীয় অবস্থা। খাদ্য ঘাটতি ছিল শোচনীয়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরপরই সাড়ে তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশ ঘাটতি পূরণ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতি ৬ হাজার জন মানুষের জন্য গঠিত হয় কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বাস্থ্যসেবা ও জনগণের পুষ্টির মান হয় উন্নত। শিক্ষা খাতসহ গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে দৃশ্যমান উন্নয়ন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার যে প্রত্যয় ছিল, বর্তমান সরকার সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের মতো সমসাময়িক অনেক দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছে গেছে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রমের কারণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে এলে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অতিথি ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেলসহ প্রমুখ।

সেমিনারে অংশগ্রহণ : গতকাল বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে ‘বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন, ২০০৪ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি ওই সেমিনারে বলেন, আমরা চাই জনবান্ধব আইনের মাধ্যমে মানুষের আইনি সেবা পাওয়া সহজ হোক। বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। যৌথভাবে ওই সেমিনার আয়োজন করে মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন (এমএলএএ), মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব), দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম। সেমিনারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরো বলেন, কোনো আইন স্মার্টলি করলে তিন মাস সময় লাগে। আলোচনা পর্যালোচনা করে একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরলে বিরোধ মীমাংসা (পৌর এলাকা) বোর্ড আইন সংশোধন নিয়ে কাজ করা সহজ হবে। আমরা চাই জনবান্ধব আইনের মাধ্যমে মানুষের আইনি সেবা পাওয়া সহজ হোক। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র ও মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল খালিদ হোসেন ইয়াদ, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন প্রমুখ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়