ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬
উৎসবে মাতোয়ারা স্পেন
মাদ্রিদে ইয়ামালদের রাজকীয় সংবর্ধনা

২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। গত সোমবার দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে শুরু হয় সংবর্ধনার আয়োজন। রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা এবং রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেন লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসরা।
মাদ্রিদে বিশ্বকাপজয়ীদের বরণ করে নিতে প্রায় ১০ লাখ লোক জড়ো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য রবিবার রাতে খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই উৎসব চলছে পুরো স্পেনে। ফুটবলপাগল এ দেশটির অলিগলিতে চলছে উচ্ছ্বাসের জোয়ার। এর আগে স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়টি ছিল ২০১০ সালে। রবিবার নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোলটি করেন স্ট্রাইকার ফেরান তোরেস। রেফারির শেষ বাঁশির পরই উৎসব শুরু হয়ে যায়। সোমবার সকালে মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অ্যাভিনিউ কাস্তিনাতে কয়েক হাজার ফুটবলপ্রেমী জড়ো হয়ে ফের উদযাপন শুরু করেন। অবশ্য রাতেও সেখানে উদযাপন হয়। সোমবার রাতে ট্রফি নিয়ে রদ্রি-ইয়ামালরা যখন ছাদখোলা বাসে সেখানে পৌঁছান, তখন সেই উৎসব পূর্ণতা পায়। সেই আয়োজনের জন্যই রবিবার রাত থেকে কঠোর পরিশ্রম করে যান মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেজ। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, রবিবার রাত থেকে এক ফোটা ঘুমাননি তিনি। বিজয়ী বীরদের সংবর্ধনা জানাতে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মেয়র জানিয়েছেন, ফুটবলাররা মাদ্রিদ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জারজোয়েলা প্যালেসে গেছেন। সেখানে তাদের বরণ করে নিয়েছেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ। রাজপ্রাসাদ থেকে ফুটবল দল প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে তার মনচোলার দপ্তরে সাক্ষাৎ করবে। এরপর সন্ধ্যায় ছাদখোলা বাসে বিজয় প্যারেড। মনচোলা থেকে শুরু হয়ে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবালেস স্কয়ারে যাবে প্যারেড।
ঠিক বিপরীত অবস্থা আর্জেন্টিনায়। প্রিয় দলের হারে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। ফাইনাল শেষ হতেই রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটকের সংবাদ পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সমর্থক ও পুলিশ সদস্য। ফাইনাল উপভোগ করতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে হাজারো সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন। শেষ বাঁশি বাজার পরই তারা সহিংস হয়ে ওঠে। স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১২টার দিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ওবেলস্কি ঘিরে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর রাতভর চলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর দলের প্রথম গন্তব্য ছিল সারসুয়েলা প্রাসাদ। সেখানে স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজপরিবারের সদস্যরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানান। এ সময় রাজা ফেলিপে বলেন, ‘এই শিরোপা শুধু একটি দলের অর্জন নয়, এটি পুরো স্পেনের গর্ব।’
এরপর দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানান এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো সমর্থক করতালি, পতাকা ও স্লোগানে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানান।
প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কোয়ার। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ লাখ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। আলোকসজ্জা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে উঠে খেলোয়াড়রাও সমর্থকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।
উৎসবের মঞ্চে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই দলের কোচ হতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। দুই বছর আগে বলেছিলাম, আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী। আজ সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখলাম।’
মাদ্রিদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদযাপন। আগামী কয়েক দিনে স্পেনের বিভিন্ন শহরেও দলটির সম্মানে সংবর্ধনা ও বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
"








































