স্মরণসভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী
ডা: কুদ্দুস ছিলেন সৎ, সাহসী ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব

বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: মো: আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা-শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ মানুষ। নিজ এলাকার মানুষের কাছে ছিলেন একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক, প্রিয় মানুষ। আমৃত্যু তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। রাজপথে তিনি ছিলেন এক চিরসংগ্রামী নেতা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই)শহীদ ডা. মিলন হলে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় বক্তারা স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই সংগ্রামের আপসহীন নেত্রী, দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন সৎ, সাহসী, নির্ভীক ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক সংগ্রামী মানুষ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এর জীবনাদর্শ বাংলাদেশের মানুষের জন্য চিরদিন অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএমএ ও ড্যাব এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।
সভাপতিত্ব করেন ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম।
বিএমইউর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ডা. এবিএম ছফিউল্লাহ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডা. মোঃ রফিকুল কবীর লাবু, ডা. আ. ন. ম মনোয়ারুল কাদির, অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান, বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন খান, চীফ এস্টেট অফিসার, ও স্মরণ সভা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ডা. এহেতাশামুল হক তুহিন, সার্জারি অনুষদের কোর্স ডাইরেক্টর ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, সহকারী প্রক্টর সহযোগী ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম খান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আলী নূর, ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তাজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. কামরুজ্জামান, ডা. এমদাদুল হক (ইকবাল), ডা. আবু আহসান ফিরোজ, ডা. এস এম নওরোজ, ডা. ইউনুস আলী, ডা. আবু মোঃ মোফাখ খারুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এর ছেলে ডা. আরাফাত প্রমুখসহ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন অফিস প্রধানগণ, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, রেসিডেন্ট, কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ মানুষ। নিজ এলাকার মানুষের কাছে ছিলেন একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক ও প্রিয় মানুষ। আমৃত্যু তিনি ছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। রাজপথে তিনি ছিলেন এক চিরসংগ্রামী নেতা।
মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা বারবার আসে না। স্বাধীনতা একবারই আসে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সাথে কোনকিছুরই তুলনা হয় না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধারা দেশটাকে স্বাধীন করেছেন বলে আজ আমরা বড় বড় স্থানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তবে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বই এর গণঅভ্যুত্থান, ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ ধরণের ঐতিহাসিক ঘটনার প্রত্যেকটিই ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বমহিমায় প্রজ্জ্বলিত। মাননীয় মন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রোগীদের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি, বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে স্মরণে রাখতে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে না পারলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলে গেলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হারিয়ে যাবে। সেদিন (১৯৭১) পাকিস্তানের ভয়ংকর সেনাবাহিনী, তাদের সাথে এদেশের রাজাকাররা যে নির্মম অত্যাচার নির্যাতন করেছে তা ভোলার নয়। রাজকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিত। তারা এদেশের মা বোনের সম্ভ্রম হানি করেছে। হিন্দুদের গ্রামের পর গ্রাম বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। মেয়েদের বেয়োনেট দিয়ে নির্মম অত্যাচার করেছে। আমরা তা যেনো ভুলে না যাই। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে স্মরণে রাখতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন প্রাণবন্ত মানুষ এবং সবকিছু তিনি ইতিবাচকভাবে নিতেন। তিনি ছিলেন পরোপকারী মানুষ। বিএনপির চোয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস অসামান্য অবদান রেখেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউর সাবেক শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে ইন্তেকাল করেন। অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুস পেশাগত জীবনে একজন প্রথিতযশা চক্ষু বিশেষজ্ঞ (অফথালমোলজিস্ট) ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন। শিক্ষাদানের পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা করার পাশাপাশি তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।









































