নিজস্ব প্রতিবেদক
মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাকে হাজির করতে আবেদন করেন। পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, মোজাফফর হোসেনের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি ভারতে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাই তাকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হাজির করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে এসেছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে। এ হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। সেনা আইনে অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিচার হলেও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন মেজর মোজাফফর হোসেন। চার দশক পর গত বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোজাফফর গ্রেপ্তারের পর আবারও সামনে এসেছে নানা প্রশ্ন। এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা কী ছিল এবং এর নেপথ্যে আর কারা ছিলেন- এসব নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় নতুন করে হত্যা মামলা হলে অজানা অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ বলেন, জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর মেজর মোজাফফর ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জি’ নামে পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করেন। সেই পাসপোর্টে তিনি কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। আবু রূশদ আরো বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীরবিক্রম জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্থায় মেজর মোজাফফর ও মেজর খালেদ তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
তার দাবি, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মেজর মোজাফফর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এখানেও বিভিন্ন নামে পরিচয় ব্যবহার করেন। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তিনি আবার দেশ ছেড়ে যান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তিনি পুনরায় দেশে ফিরে বসবাস শুরু করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলা-সংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’।
"








































