নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নীতিপ্রণেতাদের টার্গেট করে অপপ্রচারের অভিযোগ

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর ক্যাবিনেটের শীর্ষ সদস্যসহ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অতি সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমসহ সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তিবর্গ এই সাইবার অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর এক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৩৫১টি এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে ৫০টি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই একটি বিশেষ মহল এসব তথ্য ছড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কিছু সংস্কারমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন না করে সামাজিক মাধ্যমে ভুল ট্রোল ও প্রচার চালানো হয়—যদিও তিনি ইতোমধ্যে পরিবারের কারও নামে প্রতিষ্ঠান না করার জন্য লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ব্লগ ব্যবহার করে চালানো এই ‘পেইড প্রোপাগান্ডা’র উদ্দেশ্য হলো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তথ্য যাচাই ছাড়া অসত্য ছড়ানো সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। প্রশাসনের উচিত এসব প্রোপাগান্ডাকারীদের চিহ্নিত করে আইনি আওতায় নিয়ে আসা।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, “তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে অনুচিত। যেকোনো সংবাদ প্রচারের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।”
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ভুয়া তথ্য ও পেইড প্রোপাগান্ডা একটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সরকার ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
পিডিএস/এমএইউ









































