মেহেদী হাসান

  ১১ মার্চ, ২০২৪

দুধ ডিম মাংসের উৎপাদন এক দশকে বেড়ে দ্বিগুণ

সুলভ মূল্যে প্রাণিজ পুষ্টির নিশ্চয়তায় কাজ করছে সরকার। গত এক দশকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। বিগত ১০ বছরে ডিম ও দুধ উৎপাদন দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। আর দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে মাংস উৎপাদন। ফলে জনগণ পাচ্ছে সুফল। আসন্ন রমজানে রাজধানীর ৩০ স্থানে ট্রাকে করে কম দামে গরু, খাসি, মুরগির মাংস এবং ডিম, দুধ ও মাছ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল রবিবার এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমান। ৬০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস, ৯০০ টাকা কেজি খাসির মাংস, ব্রয়লার মুরগি (ড্রেসড) ২৫০ টাকা কেজি এবং প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি করা হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৭ কোটি, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩৮ কোটি। এই ১০ অর্থবছরে দুধ উৎপাদন ৬১ লাখ টন থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ টনে। সব ধরনের মাংসের ক্ষেত্রে যা ৪৫ লাখ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৭ লাখ টন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত মাংস উৎপাদন ১৫ গুণ বেড়েছে। ডিমের উৎপাদন বেড়েছে ১২ গুণ। এছাড়া বাংলাদেশে দুধের মূল উৎস গরু। শতকরা ৯০ ভাগ দুধ আসে গরু থেকে, ৮ শতাংশ আসে ছাগল থেকে এবং ২ শতাংশ আসে মহিষ থেকে। ফলে দুধেও সাফল্য অনেকটা।

ডিম, দুধ ও মাংসে সাফল্য : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুযায়ী, একজন মানুষকে গড়ে দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা উচিত। তবে বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ২২২ মিলিলিটার। একজন মানুষের গড়ে দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংস খাওয়া উচিত তবে এর বিপরীতে বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক ১৩৭ গ্রাম মাংস মিলছে পাতে। গত এক দশকে ডিম, দুধ ও মাংসে ঈর্ষণীয় সাফল্যের দেখা পেয়েছে সরকার। দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৩৭ লাখের হিসাব কষে প্রাণিসম্পদ বলছে ডিম, দুধ ও মাংসে প্রায় শতভাগ সফলতা এসেছে।

দেশের আবহাওয়া উপযোগী লেয়ার হাঁস-মুরগির জাত উন্নয়ন, গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক ও প্যারেন্ট স্টক খামার স্থাপন, বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের ফলে ডিম উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তথ্য বলছে, দেশের প্রায় ১ দশমিক ৬৫ লাখ মানুষ ডিম ও মাংস উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র, দেশে এখন ৮১ হাজার ৬১৪টি পোলট্রি ফার্ম রয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ডিমের উৎপাদন ছিল ২০৫৭ কোটি ৬৪ লাখ, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের উৎপাদনের (৬০৭.৮৫ কোটি) তুলনায় ৩.৪ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ডিমের জনপ্রতি প্রাপ্যতা বছরে ১২১ টিতে উন্নীত হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তথ্য বলছে, এই সংখ্যা ১৩৫টিতে ঠেকেছে। অর্থাৎ, দেশের মানুষ বর্তমানে বছরে ১৩৫টি ডিম খেতে পারছে। এই অর্থবছরে ডিম উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি ৬৩ লাখ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬ কোটি ৮০ লাখ।

দুধের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতকল্পে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, মাননিয়ন্ত্রণ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তোলায় সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ছিল ১১৯.৮৫ লাখ টন, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রতি প্রাপ্যতা প্রতিদিন ১৯৩.৩৮ মিলিগ্রামে উন্নীত হয়। বিগত দশকে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, জাত উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ডেইরি স্টকের সংখ্যাগত উত্থান দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে প্রতিদিন যেখানে একজন মানুষের ২৫০ মিলিগ্রাম দুধ খাওয়া প্রয়োজন তার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে চলেছে সরকার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তথ্য বলছে জনপ্রতি দুধের প্রাপ্যতা বেড়ে ২২২ মিলিগ্রামে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থবছরে ১৪০.৬৭ টন দুধ উৎপাদন হয়েছে।

মাংস উৎপাদনে সরকারের নীতিগত সহায়তার প্রেক্ষাপটে পোলট্রি সেক্টরে অব্যাহত বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকায়ন ঘটে। গত কয়েক বছরে গবাদিপশুর অবৈধ বাণিজ্য রোধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণের বাণিজ্যিক উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। ফলে বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। গত এক দশকে মাংস উৎপাদন ৪.২৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৪.৪০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে এবং জনপ্রতি প্রাপ্যতা মাথাপিছু প্রতিদিন ১৩৬.১৮ গ্রাম দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭.৩৮ গ্রাম। প্রতিদিন ১২০ গ্রাম মাংস একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট হলেও দেশে উৎপাদনে ছাড়িয়ে গেছে। গত বছরে মাংস উৎপাদন হয়েছে ৮৭.১০ লাখ টন।

২০২০-২১ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ উপখাতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৩.৮০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১৩.১০ শতাংশ ছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষিজ জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান বেড়ে ১৬.৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২০ শতাংশ এবং পরোক্ষভাবে ৫০ শতাংশ মানুষ জড়িত।

খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ এখন প্রধান চার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাল, মাছ, মাংস ও সবজি উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পোলট্রি শিল্পে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০০ শতাংশ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী ২০১০ সালে হাঁস-মুরগির শিল্পে উৎপাদন আয় ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। যা ২০২৩ সালে বেড়ে ৭৩ হাজার ৫৭১ কোটিতে পৌঁছেছে। গত এক দশকে প্রাণিজাত পণ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতায়, দেশ বর্তমানে মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে মাংসের চাহিদা শতভাগ পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা ছাড়াও বেসরকারি বিনিয়োগ দুগ্ধ খাতকে আরো এগিয়ে নিয়েছে। তবে দুধ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা রয়ে গেছে এখনো, যদিও ১০ বছরে দুধের উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে। ২০০৭ সালে সরকার জাতীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতি চালু করে। তবে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন নীতিমালার খসড়া ২০১৬ সালে চূড়ান্ত হয়। বর্তমানে পুরো দেশজুড়ে প্রায় ৬৮ হাজার এর বেশি নিবন্ধিত দুগ্ধ খামার রয়েছে যা থেকে দুধ ও মাংস সহজেই মিলছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, দেশে মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ‘বিফ ক্যাটেল উন্নয়ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাংসল জাতের গরু উৎপাদন এবং দুধের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিএলআরআই লেয়ার-২ বা ‘স্বর্ণা’নামের একটি লেয়ার স্টেইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে মুরগিটির উৎপাদন সক্ষমতা সংক্রান্ত মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান আছে। এ মুরগিটি একটানা বছরে ২৮০টি ডিম দেয়। সেইসঙ্গে মাংসের চাহিদা পূরণ করে।

গরুর মাংসে আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠেছে দেশ : বিগত সময়ে কোরবানির পশুর বাজার ছিল আমদানিনির্ভর। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি কোরবানির পশু আমদানি হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্টদের তৎপরতায় সরকার আমদানি বন্ধ করেছে। সরকার গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণের জন্য প্রকল্পও নিয়েছে। যার ফলে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে কোরবানিযোগ্য পশুর পরিমাণ। গত ৪ বছরে দেশে উৎপাদিত গবাদিপশু দ্বারা কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়েছে। ঈদুল আজহা ২০২১ উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত ছিল ১.১৯ কোটি এবং কোরবানি হয়েছে ০.৯১ কোটি। পরিসংখ্যানদৃষ্টে প্রায় ২৮ লাখ কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু উদ্বৃত্ত ছিল এবং কোরবানির পশুর বাজারে প্রায় ৪৬ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। লেনদেনকৃত অর্থের সিংহভাগ ধনী থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। এছাড়া গত ঈদুল আজহায় সারা দেশে ১ কোটি ৪১ হাজার গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় পশু কোরবানি বেশি হয়েছে ৯১ হাজার ৪৯টি। তারপরও কোরবানিযোগ্য পশু উদ্বৃৃত্ত হিসেবে থেকে যায়।

তথ্য বলছে, জাত উন্নয়ন ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১০-১১ অর্থবছরে গবাদিপশুর সিমেন উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৫.৮৪ লাখ ডোজ, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪.৪১ লাখ ডোজ। গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশব্যাপী ৪,৬৯৪টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ৪৩.৬৫ লাখ গাভিতে কৃত্রিমভাবে প্রজনন করা হয়েছে। যা বর্তমানে মাংসের জন্য উপযোগী শাহীওয়াল, অস্ট্রেলিয়ান ও দেশীয় ক্রস জাতের মাংস উৎপাদনকারী গাভী ও ষাঁড়ের খামার গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ৯টি প্রুভেন বুল উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে প্রুভেন বুলের সিমেন দ্বারা কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, ফলে দেশে অধিক দুধ ও মাংস উৎপাদনশীল গাভির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশে ট্রান্সবাউন্ডারি প্রাণী রোগ প্রতিরোধের জন্য দেশের বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ২৪টি কোয়ারেন্টাইন স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২টি ভেটেরিনারি কলেজ এবং ৫টি প্রাণিসম্পদ ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়েছে। যার ফল হিসেবে বিগত এক দশকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রায় কোটি বেকার যুবক, যুব মহিলা, দুস্থ মহিলা, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষককে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগী পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাণিসম্পদের সাফল্যের ধারাকে আরো এগিয়ে নিতে চান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, আমরা মোটা দাগে ডিম উৎপাদনে গত এক দশকে তিনগুণ এগিয়েছি। মাংস উৎপাদনে দ্বিগুণের কিছু বেশি এবং দুধ উৎপাদনে প্রায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে এসেছি। আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে আমরা লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণে সক্ষম হব বলে আশা করছি। আমরা শুধু উৎপাদনেই নয়, মানসম্মত ডিমণ্ডদুধ, মাংস উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিয়েছি। গরু বেঁধে না রেখে খোলা মাঠে পালন ও আঁশ জাতীয় খাবারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। যাতে প্রাকৃতিকভাবেই গরু পালনে লাভবান হয় প্রান্তিক খামারিরা।’

সুলভ মূল্যে প্রাণিজ পুষ্টি বিক্রির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমান বলেন, আসন্ন রমজান মাসে জনসাধারণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে পারেন সেই লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মাসব্যাপী সুলভমূল্যে দুধ, ডিম, মাংস ও মাছ বিপণন ব্যবস্থা চালু করছে। প্রথম রমজান থেকে শুরু হয়ে ২৮ রমজান পর্যন্ত দুধ, ডিম ও মাংস বিপণন ব্যবস্থা রাজধানী ঢাকার ২৫টি স্থানে পরিচালিত হবে। এছাড়া স্থায়ী বাজারে আরো ৫টি স্থানসহ ৩০টি পয়েন্টে এই বিক্রয় ব্যবস্থা চালু থাকবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়