আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১০ জুলাই, ২০২৬

জার্মানিতে ১৫ রোগীকে হত্যায় চিকিৎসকের যাবজ্জীবন

জার্মানিতে ১৫ জন রোগীকে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগে হত্যার দায়ে এক (প্যালিয়েটিভ কেয়ার) চিকিৎসককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বার্লিনের একটি আদালত ৪১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন। তবে পুলিশ ও কৌঁসুলিদের ধারণা, এসব হত্যাকাণ্ডের বাইরে ওই চিকিৎসক আরও কিছু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মধ্যে ১২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রোগীকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন জোহানেস (জার্মান আদালতের কঠোর গোপনীয়তা নীতি অনুযায়ী আসামির পুরো নাম প্রকাশ না করে তাঁকে ‘জোহানেস এম’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে)। তাঁর শিকার হওয়া এই অভাগা মানুষদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে।

আদালতে শুনানির সময় জানানো হয়, ভুক্তভোগী রোগীরা প্রত্যেকেই গুরুতর বা জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁদের কারও মৃত্যুই অতি সন্নিকট ছিল না। সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, এই চিকিৎসক রোগীদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধের একটি প্রাণঘাতী মিশ্রণ শরীরে ইনজেকশন হিসেবে পুশ করতেন। শুধু তাই নয়, নিজের অপরাধের প্রমাণ এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত মুছে ফেলার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার ভুক্তভোগীদের ঘরে আগুনও লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে গ্রেপ্তারের ঠিক আগ মুহূর্তে জোহানেস এক দিনে দুই রোগীকে হত্যা করেছিলেন। ওই দিন তিনি প্রথমে সেন্ট্রাল বার্লিনে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে তাঁর নিজের বাড়িতে হত্যা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর পার্শ্ববর্তী এক জেলায় ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে একইভাবে বিষাক্ত ইনজেকশন দেন। পরবর্তীতে তিনি ওই বৃদ্ধার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়।

প্রায় এক বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার অধিকাংশ সময়ই এই খুনি চিকিৎসক সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। তবে গত মাসে নাটকীয়ভাবে নিজের অপরাধ স্বীকার করে তিনি আদালতকে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি অসুস্থ মানুষদের হত্যা করেছি।’

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়