দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

দেবীগঞ্জে লটকনের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রতিবেশী এক শিশুকে লটকনের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে বৈদ্যনাথ রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার জমা দিলে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলার পর শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে বোদা এলাকা থেকে অভিযুক্ত বৈদ্যনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে তার বোনের বাসায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গ্রেপ্তার বৈদ্যনাথ রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট বৈরাগী পাড়া এলাকার রামচরণ রায়ের ছেলে। শুক্রবার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সে বাড়ি থেকে পলাতক ছিল।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিবেশী এক হিন্দু শিশু ও এক মুসলিম শিশুকে পৃথকভাবে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে এই অপচেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আমেনা আক্তার (ছদ্মনাম) নামের এক শিশুকে লটকন দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে সে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, বেশ কিছুক্ষণ মেয়েকে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় অন্য শিশুরা জানায়, বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে ঘরের দিকে নিয়ে গেছে। প্রথমে গিয়ে সন্ধান না পেলেও, দ্বিতীয়বার খুঁজতে গেলে অভিযুক্তের ভাতিজা সুনিল (ছদ্মনাম) জানায় শিশুটিকে টয়লেটে আটকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মা আরও জানান যে, তার মেয়েকে ঘরে নিয়ে পোশাক খুলে ধর্ষণ করে বৈদ্যনাথ। বৃহস্পতিবার তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শিশুটি অসুস্থ বোধ করায় এবং ঠিকভাবে হাঁটতে না পারায় বিকেল ৩টার দিকে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানিয়া জাহান সুকন্যা জানান, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর প্রতিবেশী সেলিনা আক্তার জানান, অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায়ের ভাতিজা শিশু সুনীলসহ অন্য শিশুরা ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাদেরকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য প্রথমে টাকার লোভ দেখায় বৈদ্যনাথ। পরবর্তীতে শিশুরা তাতে রাজি না হলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় অভিযুক্ত। এদিকে এলাকাবাসী আরও জানায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ২ জুলাই একই এলাকার তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া বিন্দু রানী (ছদ্মনাম) নামের অপর এক আট বছর বয়সী শিশুকেও একইভাবে লটকন দেওয়ার কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে বৈদ্যনাথ রায়। ওই সময় মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তার মা ডাকাডাকি শুরু করলে বৈদ্যনাথ শিশুটিকে ছেড়ে দেয়। শিশুটি তখন ভয়ে কিছু না বললেও পরে মায়ের কাছে সব খুলে বলে।

এই নৃশংস ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মূসা জানান, মামলার প্রধান আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়