গাজায় ফুটবল উৎসবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: প্রাণ হারালেন মিসরীয় ত্রাণকর্মী

গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত জনজীবনে ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এক টুকরো আনন্দ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিসরীয় মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। কিন্তু সেই ‘অপরাধেই’ ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অকালে প্রাণ দিতে হলো তাকে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মাঝেও গাজার সাধারণ মানুষের জন্য বিশ্বকাপের ফুটবল ম্যাচ দেখার গণ-প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছিলেন মিসরীয় সাহায্য সংস্থার কর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাময়িক মুক্তি ও কিছুটা স্বস্তি পাওয়াই ছিল তার এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
হামলার বিবরণ: আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের ঠিক এক ঘণ্টা আগে গাজা সিটির তেল হাওয়া জেলায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি সেই খেলা দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষের সমাগমে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
এই হামলায় মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি ছাড়াও আরও তিনজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ফারি (৮) এবং হামজা (১০) নামের দুই শিশু ছিল, যারা হামলার সময় পাশেই ফুটবল খেলছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদের কার্যক্রম দেখা যায়। নিহতদের আত্মীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই শিশু ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি বাহিনীর বক্তব্য ও তদন্ত: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, উত্তর গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার একজন সদস্যকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে মুখপাত্র আরও স্বীকার করেছেন যে, মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি সরাসরি তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। নিহত অপর এক ব্যক্তি আহমেদ দাঘমুশের সঙ্গে কোনো গোষ্ঠীটির যোগসাজশ আছে কি না, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং নিরপরাধ মানুষের ক্ষতির জন্য তারা ‘অনুতপ্ত’।
মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদির এই অকাল মৃত্যু গাজায় চলমান সংকটের এক করুণ প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের জন্য সামান্য আনন্দ ও স্বস্তির মুহূর্ত তৈরি করতে চাওয়া একজন মানবিক কর্মীর জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক শোক ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।









































