মোঃ লালমিয়া, তারাগঞ্জ (রংপুর)
চায়না দুয়ারি জালে উজাড় হচ্ছে তারাগঞ্জের দেশীয় মাছ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার খাল-বিল, জলাশয় এমনকি নদীর পাড়েও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বেড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালে অবাধে এ জাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জলজ জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমপুর, হাঁড়িয়ারকুঠি, সয়ারসহ পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে প্রতিদিন চায়না দুয়ারি জাল পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাঁসের এ জালে বড় মাছের পাশাপাশি আটকা পড়ছে রেণু, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ। ফলে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে দেশীয় মাছের সংখ্যা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ এ জালের ব্যবহার চললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে একশ্রেণির অসাধু জেলে অবাধে এ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে।
উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, 'চায়না দুয়ারি জাল যেখানে পাতা হয়, সেখান থেকে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী রক্ষা পায় না। মাছের সঙ্গে কুচিয়া, সাপ, কাঁকড়াসহ নানা প্রাণী আটকা পড়ে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবে।'
সচেতন মহলের মতে, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এজন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারাগঞ্জের খাল-বিল ও জলাশয় থেকে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি হারিয়ে যেতে পারে।
পিডিএস/এমএইউ









































