এস এম হোসেন রানা, ইসলামপুর (জামালপুর)
ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে ইসলামপুর, বাঁধের দাবি বিপন্ন পরিবারগুলোর

যমুনার পর এবার জামালপুরের ইসলামপুরে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ও তীব্র নদীভাঙনে উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই আর ফসলি জমি হারিয়ে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় শত শত পরিবার। এই করাল গ্রাস থেকে মুক্তি এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
নদীভাঙন রোধে এবং স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে পলবান্ধা ইউনিয়নের ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সিরাজাবাদ (নতুনপাড়া) এলাকার লাল মিয়ার বাড়ি থেকে শুরু করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাহাদুরপুর (নতুনপাড়া) এলাকার সোনাউল্লাহর বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কজুড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক বিপন্ন নারী-পুরুষ অংশ নেন।
অপরিকল্পিত ড্রেজিংই কি কাল হলো
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নদীভাঙনের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক কারিগরি ত্রুটির কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদে যে ড্রেজিং বা নদীখনন কাজ চলছে, তা অত্যন্ত অপরিকল্পিত। ড্রেজার দিয়ে নদী খনন করে শুধু এক পাশেই অনবরত মাটি ও বালু ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে তীব্র স্রোত বিপরীত পাশে এসে আছড়ে পড়ছে। এই ভুল ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণেই বিপরীত পাশের জনবসতিতে এমন ভয়াবহ ও আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
হুমকির মুখে ফসলি জমি ও অবকাঠামো
স্থানীয়রা জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি চোখের পলকে ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে এই ভাঙনের মুখে রয়েছে বিশাল ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাকা রাস্তাসহ কোটি কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো ইউনিয়নটিই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি রেহান আলী, পলবান্ধা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুনায়েত সরকার জাহিদ এবং ক্বারী মোঃ ইব্রাহীমসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে মানুষ আজ নিঃস্ব। এভাবে চলতে থাকলে নদীপাড়ের মানুষের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত বালু ফেলা বন্ধ করে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পিডিএস/এমএইউ









































