পটুয়াখালী প্রতিনিধি

  ১৮ অক্টোবর, ২০২১

কলেজছাত্রকে অপহরণ করে বিয়ে, ভিডিও ভাইরাল!

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের এক ছাত্রকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে করেছেন এক নারী। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অপহরণ শিকার নাজমুল আকন (২৩)পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। সে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের জালাল আকনের ছেলে।

অপরদিকে অভিযুক্ত অপহরণকারী নারী ইশরাত জাহান পাখী(২৫)একই উপজেলার গাজিপুর গ্রামের মো. আউয়াল হোসেনের মেয়ে।

এ ঘটনায় নাজমুল আকন বাদী হয়ে ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও জোরপূর্বক তাকে বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল ইসলামের আদালতে মামলা করেছেন (মামলা নং সিআর ১০৪৬/২০২১)। মামলায় ইশরাতসহ অজ্ঞাত ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের সঙ্গে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ক্লিপও জমা দেওয়া হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক নারীর (ইশরাত জাহান পাখি) বাম পাশে নাজমুল বসে আছেন, পেছন থেকে নাজমুলের মাথার দুইদিক থেকে এক ব্যক্তি ধরে রেখেছে। সেখানে আরও কয়েকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় ওই নারীকে নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে। স্বাক্ষর গ্রহণের পর নাজমুলকে মিষ্টি খাইয়ে দিলে নাজমুল তা মুখ থেকে ফেলে দেয়।

জানা গেছে, ইসরাত জাহান পাখি বর্তমানে নাজমুল আকনের স্ত্রী পরিচয়ে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রতিদিনের সংবাদকে ইসরাত বলেন, নাজমুলের সাথে তার দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাজমুল তাকে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন। এখানে অপহরণ কিংবা জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যার কারণে বর্তমানে তিনি নাজমুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

নাজমুলের আইনজীবী এড. আবদুল্লাহ্ আল নোমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিয়ের প্রলোভন দেখায় ওই নারী। নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে চোখ বেধে অপহরণ করে ২৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে বলপূর্বক তাকে একটি নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় আমরা দন্ডবিধির ১৪৩/৩৬৫/৩৭৯/৩৮৪/৫০৬ ধারা মোতাবেক আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভিডিওটি দেখুন...

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পটুয়াখালী,কলেজছাত্র,বিয়ে
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়