reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২০ জুলাই, ২০২৬

বদলে যাবে পুরান ঢাকা

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সমন্বয় আমাদের প্রত্যাশা

জরাজীর্ণ ভবন, ঘিঞ্জি পরিবেশ, অপরিকল্পিত ও ফুটপাতহীন সংকীর্ণ রাস্তা, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত রাজধানীর পুরান ঢাকা। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য চিন্তা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে নতুন প্রকল্প। এর মাধ্যমে পুরান ঢাকাকে সাজানো হবে নতুনভাবে। দীঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এতে প্রচণ্ড আশাবাদী পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরান ঢাকায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত অনেক ভবনেরই বয়স ১০০ বছরের বেশি। এর মধ্যে বেশির ভাগই সময়োপযোগী নয়। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক সংকীর্ণ। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন প্রকল্প নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রকল্পের সারসংক্ষেপ এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বলা সংগত, আদি এ জনপদের একদিকে যেমন রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং হেরিটেজ সাইটের গৌরব; অন্যদিকে সময়ের বিবর্তনে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে পুরাতন ঢাকা হয়েছে জরাজীর্ণ ও অপর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধাদির সমস্যায় জর্জরিত। সেই বাস্তবতায় পুরাতন ঢাকার স্বকীয়তা বজায় রেখে পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে এসব নাগরিক সমস্যা থেকে উত্তরণের একটি পথ হতে পারে নগর পুনঃউন্নয়ন বা আরবান রিডেভেলপমেন্ট। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহ্যের আদলে পুরান ঢাকা পুনর্গঠন বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় দাবি ও অগ্রাধিকার। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করে উন্নত বিশ্বের ‘আরবান রি-জেনারেশন’ (শহরের পরিকল্পিত পুনর্জীবন) ধারণার আলোকে পুরান ঢাকাকে সাংহাই মডেলে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার এ মহাপরিকল্পনায় ঐতিহাসিক রূপ ঠিক রেখেই আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করবে রাজউক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এমন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা তৈরিরও পরামর্শ দিয়েছেন। বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা পুরান ঢাকা আর চীনের হুয়াংপু নদীর তীরে গড়ে ওঠা সাংহাই; দুটি শহরের ইতিহাসই সমৃদ্ধ। কিন্তু আধুনিক, পরিকল্পিত সাংহাইয়ের তুলনায় পুরান ঢাকা এখনো নানা সমস্যায় জর্জরিত। ‘৫২ বাজার ৫৩ গলি’র এ এলাকায় রয়েছে শতবর্ষী ভবন, সরু রাস্তা, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, অগ্নিঝুঁকি ও তীব্র যানজট। জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো পৌঁছানোও কঠিন। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণে পুরান ঢাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতা বদলাতেই সরকার পুরান ঢাকার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরান ঢাকার ‘আরবান রি-জেনারেশন’ উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে সরাসরি বড় পরিসরে কাজ শুরু না করে আগে ব্লকভিত্তিক পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জনগণকে সম্পৃক্ত করা উচিত। একইসঙ্গে এমন মেগা প্রকল্প সফল করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বলা বাহুল্য, আরবান রি-জেনারেশন ও সাংহাই মডেল পুরান ঢাকা পুনর্গঠনে সরকার ‘আরবান রি-জেনারেশন’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে, যা সাংহাই মডেল নামে পরিচিত। এর মূল দর্শন হলো পুরান ঢাকার সব স্থাপনা ধ্বংস না করে, ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো সংরক্ষণ করা এবং বাকি ঘিঞ্জি এলাকাগুলোকে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ পুনর্নির্মাণ করা। এছাড়া সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃতপ্রায় নগরজীবনে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। পুরান ঢাকার বাসিন্দারা আধুনিক নগরের স্বপ্ন দেখলেও তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেন অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। তাদের বিশ্বাস, তাতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার একটি সুন্দর সমন্বয় গড়ে উঠবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়