reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৯ জুলাই, ২০২৬

বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা বন্ধ হোক

কাঁচাবাজার থেকে একটি পরিবারে যা যা কিনতে হয়, তার প্রায় সবকিছুর দামই বেড়েছে। এ তালিকায় যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা আছে, তেমনি রয়েছে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম। পিছিয়ে নেই মাছ ব্যবসায়ীরাও। তারাও দাম বাড়িয়েছেন। এই মূল্যবৃদ্ধি সেসব সীমিত আয়ের মানুষের ওপর নতুন আঘাত, যারা ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতিতে নাকাল। এর আগে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করতো। এবার ব্যবসায়ীদের সামনে বড় অযুহাত টানা বৃষ্টিতে নাকি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অথচ সব ধরনের যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। তারপরও কেন নিত্যপণ্যের বাজারে এমন অস্থিরতা? তা সাধারণ মানুষ জানতে চায়।

বলা সংগত, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইসঙ্গে ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ, তেলাপিয়াসহ স্বল্পমূল্যের প্রোটিন ডিমের দামও বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ব্যয় আরো বেড়ে গেছে। এখন অসহায় ক্রেতারা প্রয়োজনের অর্ধেক পণ্য কিনে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। গতকাল প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা কম ছিল। লাউ, যা এক সপ্তাহ আগেও ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। কয়েকদিন আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সাধারণ মানের কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ভালোমানের কাঁচামরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রোটিনজাত পণ্যের বাজারেও বেড়েছে দাম। ব্রয়লার মুরগি এখন কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং কই মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বলা বাহুল্য, বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নাকি বাজারে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ব্যয় আরো বাড়বে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি যারা অতি মুনাফা করতে পণ্যের দাম বেশি বৃদ্ধি করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তা না হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষার জন্য সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা যেমন নিশ্চিত করতে হবে। তেমনি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে এ ধরনের সকল পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়