নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৪ ঘণ্টা আগে

৫ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং শিল্প ও কৃষি খাতের চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নতুন করে আরো ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ আমদানির মূল লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা বর্তমানের ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিনে উন্নীত করা। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিতব্য এ জ্বালানির মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল রয়েছে। সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ এ জ্বালানি সরবরাহ করবে।

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এ কেনাকাটায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা ধরে এ আমদানিতে মোট ৬২ কোটি ২৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এরই মধ্যে বিপিসির এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আমদানির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও কার্যাদেশ প্রদানের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে ‘নোয়া’ বা নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির পরপরই তেল সরবরাহ শুরু হবে। মূলত প্রতি ৬ মাসের নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবেই জুন থেকে আগস্ট- এ তিন মাসের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এ বাড়তি মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সংকট এবং জাহাজ চলাচলের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে ট্রানজিট সময় ও পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া বিমা কোম্পানিগুলোর বাড়তি প্রিমিয়ামের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়