মিলন রায়হান, জয়পুরহাট

  ৪ ঘণ্টা আগে

হিমাগার ভাড়ায় আলু চাষির চোখে হতাশার ছায়া

জয়পুরহাটে এ বছর ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে উৎপাদিত হয়েছে ১০ লাখ টনেরও বেশি আলু। বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে কিছু লাভের আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু তুলেছেন হিমাগারে। কিন্তু সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করছে নতুন সংকট। বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে হিমাগার ভাড়া। ফলে লোকসানের বোঝা আরো ভারী হয়ে উঠেছে কৃষকের কাঁধে।

এ বছর জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। শুরুতে ও উত্তোলনের সময় হঠাৎ বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে আলু। এতে কৃষকের মুখে নেই হাসি। চড়া দামে বীজ, সার, কীটনাশক আর শ্রমিক খরচ মিটিয়ে যখন বাজারে মিলেনি কাঙ্ক্ষিত দাম, তখন ভবিষ্যতের ভালো দামের আশায় আলু তুলে রাখা হয় হিমাগারে। কিন্তু সেই হিমাগারই যেন আজ নতুন দুশ্চিন্তার নাম। ভাড়া বৃদ্ধির খবরে কৃষকের স্বপ্নে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। বর্তমানে আলুর দরপতনে প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকা লোকসানে ক্ষতির সম্মুখীন প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

জেলায় ২২টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা যায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টন আলু। প্রতি বছর হাজার হাজার কৃষক ও ব্যবসায়ী বাজারের দর বাড়ার অপেক্ষায় এখানেই আলু সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এবার সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের আশার জায়গাটিও পরিণত হয়েছে উদ্বেগের কেন্দ্রে। এ অবস্থায় ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনে নেমেছেন আলু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও বিদেশে রপ্তানি ব্যবস্থা না হলে এই লোকসানে মুখ থুবড়ে পড়বে।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর বাজারের লুৎফর হোসেন জানান, আলু উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বাড়লেও কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এর ওপর অতিরিক্ত সংরক্ষণ ভাড়া কৃষকদের আরো বিপদে ফেলেছে। তবে হিমাগার মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রায় ইউনিয়নের ‘মো. মুকুল হোসেন জানান, প্রতি ৬০ কেজি আলুর বস্তা সংরক্ষণে হিমাগারে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে গড়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে প্রায় ৬ দশমিক ৯০ টাকা খরচ হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়সহ প্রতি কেজি আলুর খরচ ২২ থেকে ২৩ টাকার বেশি হলেও বর্তমানে বাজারে ১৪ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।’

আবু রায়হান ম্যানেজার, কোল্ড স্টোর, কালাই, জয়পুরহাট, জানান, তবে হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় আলু উৎপাদন বেশি। সেই সঙ্গে বাড়ছে হিমাগার। বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া তাদেরও বিকল্প ছিল না। তাদের দাবি, ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত। মো. সেলিম মণ্ডল ম্যানেজার, আর, বি, কোল্ড স্টোরেজ, শিমুলতলী কালাই, জয়পুরহাট। বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া তাদেরও বিকল্প ছিল না। তাদের দাবি, ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত। জয়পুরহাটে কৃষি বিপণন অফিসার মেহেদী হাসান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, কৃষি বিপণন বিভাগ বলছে, কৃষকের সংরক্ষণ খরচ কমাতে, হিমাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি কৃষি বিপণন অফিসারের। জয়পুরহাটে এ বছর প্রায় ১০ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। বিপরীতে ২২টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা যায় মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টন আলু। কিন্তু মাঠে ফলনের সাফল্য কৃষকের ঘরে স্বস্তি এনে দেওয়ার কথা ছিল। বাজারে দরপতনের পর হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির ধাক্কায় সেই স্বস্তিও এখন অধরা। লাভের আশায় হিমাগারে রাখা আলু যেন কৃষকের জন্য হয়ে উঠেছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়