ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

  ০২ জুলাই, ২০২৬

সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে চরম দুর্ভোগ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মেয়াদউত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সকালে সোনাহাট সেতুর স্টিলের অংশের পাটাতন ভেঙে একটি বালুবাহী ট্রাকটর আটকে যায়। এতে ট্রাকসহ সব ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে সেতুর দুই পাড়ে যানবাহনের লম্বা সারি দেখা গেছে। সেতুটি দীর্ঘদিনের পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিল বিভিন্ন যানবাহন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেতুটির বিভিন্নস্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে এবং ট্যাংক জাম (লোহার পাতি) খুলে গেছে। তবু জীবন-জীবিকার তাগিদে এতদিন ঝুঁকি নিয়েই চলছিল যানবাহন। স্থানীয়রা বলছেন, ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘদিন পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারী দক্ষিণের তিন ইউনিয়ন ও কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়।

নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ১০০ বছর। সেই মতে সোনাহাট সেতুর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৪০ বছর আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পাড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম।

ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুটির পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণে মোট ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দৈঘ্যে সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। ওই সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ ২ বছর ধরা হলেও ৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাই সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।

সোনাহাট সেতু পাড়ের ব?্যবসায়ী ফরিদুল, শফিকুল ও নুর ইসলাম জানান, এই রেলসেতু দিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় সেতুটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। এ ছাড়া সরু সেতু দিয়ে যখন একটি ট্রাক যায় তখন পাশ দিয়ে অন্য যানবাহন যাওয়ার জায়গা থাকে না। এতে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক ব?্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, নিয়মিত সেতুর পাটাতন ভাঙে আর সড়ক বিভাগ সেটি মেরামত করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে যদি পণ্যবাহী গাড়ি না চলে, তাহলে স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এতে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাবে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ওভার লোড বহনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব?্যবস্থা নেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়