reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ দিন, বেঁচে ফিরলেন সেই যুবক

ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হার্নান গিল নামের এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় ১৪০ টন ওজনের ভারী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন তিনি। তাঁকে শনাক্ত করার পর দীর্ঘ ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান চালিয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তাঁকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবকের সাথে দেখা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তিনি এই উদ্ধারপ্রাপ্তিকে একটি ‘জীবন্ত অলৌকিক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রদ্রিগেজ এই ভূমিকম্পকে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "এমন পরিস্থিতির কথা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করেছি এবং আগামীতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।" বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৫৯৫ জনে পৌঁছেছে এবং এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

চিলির একদল দক্ষ উদ্ধারকর্মী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল প্রক্রিয়ায় গিলকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা একে তাঁদের অভিজ্ঞতায় প্রযুক্তিগতভাবে অন্যতম কঠিন অভিযান বলে বর্ণনা করেছেন। কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল বলেন, "এত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গিল প্রায় অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এসেছেন, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।"

উদ্ধারকারী মাদ্রিগালই প্রথম গিলের বেঁচে থাকার সংকেত পান। সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, "এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। প্রথমে আমি নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার এক সহকর্মীকেও শুনতে বলেছিলাম।"

জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় গিল ‘ক্যাটিয়া লা মার’ এলাকার গ্যালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিং মলের সংলগ্ন পার্কিং লটের বেসমেন্টে থাকা একটি ছোট কংক্রিটের বুথে দায়িত্বরত ছিলেন। পুরো ভবনটি ধসে পড়লেও অবিশ্বাস্যভাবে সেই বুথটি গিলের চারপাশে একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে। ফলে ওপর থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ আছড়ে পড়লেও তিনি ভেতরে নিরাপদ ছিলেন। এমনকি উদ্ধার পাওয়ার পর গিল জানিয়েছেন, অলৌকিকভাবে তাঁর শরীরের একটি নখও থেঁতলে যায়নি।

তবে উদ্ধার অভিযানটি সহজ ছিল না। বিবিসি জানিয়েছে, গিলের কাছে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীরা যে সুড়ঙ্গ বা প্রবেশপথ তৈরি করেছিলেন, তা কয়েকবার ধসে পড়ে। ফলে বারবার ব্যাহত হওয়া এই উদ্ধার অভিযানটি শেষ পর্যন্ত এক অনন্য সফলতায় রূপ নেয়।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়