তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
স্বেচ্ছাশ্রমে জমির আইল হলো রাস্তা, স্বস্তিতে দুই গ্রামের মানুষ

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সরকারি অনুদানের অপেক্ষা না করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রামবাসী। নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ জমির আইলকে চলাচলের কাঁচা রাস্তায় রূপান্তর করেছেন তারা। এতে অবসান ঘটেছে তাড়াশের তালম ইউনিয়নের লাউতা ও গোন্তা গ্রামের প্রায় তিন হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্টের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাউতা ও গোন্তা গ্রামের সংযোগকারী একমাত্র পথটি ছিল মূলত জমির আইল। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যেত এই পথ। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ত লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদার মধ্যে পিছলে পড়ে প্রায়ই তাদের বই-খাতা, স্কুলব্যাগ ভিজত এবং অনেক সময় বিদ্যালয়ে না গিয়ে মাঝপথ থেকেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হতো তারা। এছাড়া এলাকার কোনো অসুস্থ রোগী বা মৃতদেহ বহনের ক্ষেত্রেও গ্রামবাসীকে চরম বিপাকে পড়তে হতো।
এই দুর্ভোগ দূর করতে মানবিক দিক বিবেচনা করে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাহার আলী মাস্টার। তিনি রাস্তার জন্য নিজের জমির একটি অংশ ছেড়ে দেন। এরপর যুবনেতা আশরাফুল ইসলামের নিজ অর্থায়নে ২০ জন শ্রমিকের সহায়তায় এবং স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু হয় মাটি ভরাটের কাজ।
লাউতা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিজ ও মোছা. ঝর্ণা খাতুন জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই এই পথে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ত। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কিংবা কবরস্থানে লাশ নেওয়া—সবকিছুতেই ছিল চরম ভোগান্তি। নিজেদের উদ্যোগে কাঁচা রাস্তাটি হওয়ায় এখন বড় দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলবে। তবে এটি টেকসই করতে তারা সরকারি সহযোগিতায় রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার দাবি জানান।
জমিদাতা মো. আজাহার আলী মাস্টার বলেন, "আমার জমির কিছুটা অংশ দেওয়ার কারণে যদি এলাকার অসুস্থ মানুষ দ্রুত হাসপাতালে যেতে পারে এবং কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া সহজ হয়, তবে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।"
মাটি ভরাট কাজের সমন্বয়ক আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সম্পূর্ণ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগ। শিশুদের নির্বিঘ্নে স্কুলে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করতেই এই প্রচেষ্টা।
লাউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "জমির আইলের কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসতে সমস্যায় ভুগছিল। এই মহৎ উদ্যোগের ফলে এখন গোন্তা ও লাউতা গ্রামের শিক্ষার্থীরা কোনো বাধা ছাড়াই নিরাপদে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।"









































