অলিউজ্জামান রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি বিষাক্ত পরিবেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের সাহাবা ডাইং এলাকায় উর্বর ফসলি জমির মাঝখানে চলছে অবৈধভাবে সিসা তৈরির কাজ। মূলত অটোরিকশা ও চার্জার ভ্যানের পুরোনো ব্যাটারি ভেঙে এই কারখানায় সিসা বের করা হয়। ব্যাটারির ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে, বিষাক্ত এসিড ও সিসা গলিয়ে তা আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যাটারির মারাত্মক বিষাক্ত এসিড, সিসা আর প্লাস্টিকের বর্জ্য মিশছে চারপাশের মাটিতে। এতে করে কারখানার পাশের ফসলি জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও।
লোকচক্ষুর আড়ালে, রাতের আঁধারে এই ক্ষতিকর কাজ চালানো হচ্ছে। দিনের বেলা এই কারখানাটি একদম জনমানবহীন ও শান্ত থাকে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই চেনা রূপ বদলে যায় জায়গাটির। রাতের আঁধারে সেখানে আনা হয় বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ব্যাটারি। এরপর সেগুলো পুড়িয়ে সিসা বের করার কাজ চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সিসা পোড়ানোর ঝাঁঝালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় রাতের বেলা এলাকার মানুষের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। কারা এই কাজ করছে, তা স্থানীয় কেউ জানেন না। সম্পূর্ণ অপরিচিত কিছু মানুষ গোপনে এই ক্ষতিকর কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও এসিডের কারণে কারখানার চারপাশের সবুজ ঘাস এরই মধ্যে মরে কালো হয়ে গেছে। ধানি জমি আর আমের বাগানগুলো পড়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনের বেলা এখানে কেউ থাকে না। সন্ধ্যা নামলেই বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ভরে যায়। গন্ধে টেকা যায় না। চোখের সামনে মাঠের সবুজ ঘাসগুলো মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে। ধানের জমিতেও এর খারাপ প্রভাব পড়ছে। আমরা চাষবাস করে খাই, এভাবে চললে তো ফসল সব নষ্ট হয়ে যাবে।
আমচাষি মোমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘কারখানার পাশেই আমার আমের বাগান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের প্রধান আয় আসে এই আম থেকে। সিসা পোড়ানোর এই বিষাক্ত গ্যাস আর এসিড আমগাছের পাতা ও মুকুলের যে ক্ষতি করছে, তাতে আগামীতে কোনো আম পাব কি-না এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। কারখানাটি দ্রুত বন্ধ করা না হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’
ফসলি জমি ও লোকালয়ের কাছে এমন বিপজ্জনক পরিবেশ দূষণের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সাইদ বলেন, কৃষি জমিতে অটোরিকশার ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা এবং এর বিষাক্ত এসিড ও বর্জ্য মাটিতে ফেলা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বড় অপরাধ। এ সিসার ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্য বাতাস, মাটি ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে। গোবরাতলার সাহাবা ডাইং এলাকার এ বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হবে। খুব তাড়াতাড়ি সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে অভিযান চালানো হবে। এই অবৈধ কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ধরে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
"





































